২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতেই কি থেমেছিল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ?

২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতেই কি থেমেছিল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী পারমাণবিক যুদ্ধ রুখে দিয়েছিলেন তিনি নিজেই, আর তার অস্ত্র ছিল প্রবল ‘অর্থনৈতিক চাপ’। বৃহস্পতিবার ‘বোর্ড অফ পিস’-এর একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশের সংঘাতের চরম মুহূর্তে তিনি ২০০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যা শুনেই নাকি পিছু হটে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র।

যুদ্ধের ময়দান থেকে আলোচনার টেবিল

ট্রাম্পের বয়ান অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান যখন একে অপরের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলাম, তোমরা যদি যুদ্ধে জড়াও, তবে দু’দেশের উপরেই ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাব। ওরা লড়তে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু যখন বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ এল, তখন দুই পক্ষই বলল— আমরা আর যুদ্ধ করতে চাই না।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, সেই সংঘাতের সময় আকাশপথে লড়াইয়ে অন্তত ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। তবে এই আকাশপথের লড়াই বা বিমান ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়কাল তিনি উল্লেখ করেননি।

নয়াদিল্লির অবস্থান ও সত্যতা

যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি নতুন নয়, এর আগেও তিনি একাধিকবার নিজেকে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ‘শান্তিদূত’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ভারত সরকার প্রতিবারই তাঁর এই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে নয়, বরং দুই দেশের সামরিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনার ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) সরাসরি হটলাইনের মাধ্যমে ভারতীয় সেনার DGMO-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং ভারত সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়।

ট্রাম্পের দাবির নেপথ্যে কী?

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য যতটা না কূটনৈতিক সত্য, তার চেয়ে অনেক বেশি নিজের ‘ডিল মেকার’ ইমেজকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ট্রাম্পের পুরনো কৌশল। তবে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি এবং পাকিস্তানের মতো সংকটাপন্ন অর্থনীতির ওপর একই সংজ্ঞায় শুল্কের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধ থামানোর দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ভারত বরাবরই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধী। ট্রাম্পের এই নতুন দাবি নিয়ে সাউথ ব্লক এখনও সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, বিশেষজ্ঞ মহলে এটি ‘প্রচারমুখী মন্তব্য’ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *