বহিরাগত প্রার্থী হলে ভোট করবেন না কর্মীরা, বিধানসভার আগে বঙ্গ বিজেপিতে চরম বিদ্রোহ

বহিরাগত প্রার্থী হলে ভোট করবেন না কর্মীরা, বিধানসভার আগে বঙ্গ বিজেপিতে চরম বিদ্রোহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের একবার ‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে উত্তাল হয়ে উঠল বঙ্গ বিজেপি। দলের অন্দরের ক্ষোভ এবার আর চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আছড়ে পড়েছে রাজপথে। জেলা নেতৃত্বের কড়া হুঁশিয়ারি— যদি সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমিপুত্র বা ভূমিকন্যাকে প্রার্থী না করা হয়, তবে নির্বাচনী ময়দানে এক পা-ও ঘাম ঝরাবেন না বুথ স্তরের কর্মীরা। এই বিদ্রোহের জেরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবিরের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

চিঠিতে কড়া বার্তা ও বিদ্রোহের সুর

সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্য়েই একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করে দিল্লিতে পাঠিয়েছে। সেই তালিকায় বেশ কিছু পুরনো বিধায়কের নাম বাদ পড়া এবং নতুন কিছু ‘পছন্দসই’ মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর জানাজানি হতেই জেলা স্তরে অসন্তোষের আগুন জ্বলে ওঠে। একাধিক জেলা সভাপতি সরাসরি রাজ্য দফতরে চিঠি পাঠিয়ে সাফ জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ নেই এমন কোনও বহিরাগতকে চাপিয়ে দিলে তাঁরা নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

এই চরমপত্রের পর বিজেপির অন্দরে চোরা স্রোত বইতে শুরু করেছে। নিচুতলার কর্মীদের দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনে অনেক জায়গাতেই বাইরের প্রার্থীকে এনে জেতানোর চেষ্টা হয়েছিল, যার ফল ভালো হয়নি। তাই এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তাঁরা।

দেওয়াল জুড়ে ‘ভূমিপুত্র’ চাই পোস্টার

বিদ্রোহের আঁচ সবথেকে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে নদিয়ার চাকদহ এবং হরিণঘাটা ব্লকে। চাকদহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির প্রতীক সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার পড়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা রয়েছে— “আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কোনও ভূমিপুত্র বা ভূমিকন্যাকেই চাই।”

শুধু চাকদহ নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা এমনকি উত্তরবঙ্গের কিছু পকেটেও এই ধরনের পোস্টার পড়তে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় ভারতীয় জনতা পার্টির নাম ও পদ্মফুলের ছবি থাকলেও নিচে কোনও ব্যক্তির নাম নেই। এর থেকে পরিষ্কার যে, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীরা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন।

অস্বস্তিতে রাজ্য নেতৃত্ব

দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই মুখ পুড়ছে গেরুয়া শিবিরের। সাধারণত এই ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেসের ‘চক্রান্ত’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পোস্টার ও ব্যানারের ভাষা এবং জেলা নেতৃত্বের পাঠানো চিঠির বয়ান এতটাই সুনির্দিষ্ট যে, একে বিরোধীদের কাজ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না নেতারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে এই ব্যানারগুলি লাগানো হচ্ছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ। রাজ্য নেতৃত্বের তরফেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি যদি এখনই এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে না পারে, তবে ভোটের ময়দানে তার বড়সড় মাসুল গুণতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *