বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির পথে ভারত!

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন কাটিয়ে এবার প্রতিবেশী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বইতে শুরু করেছে উষ্ণ বাতাস। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের এই ইতিবাচক ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভিসা জট কাটছে এবং ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দ
দুই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সবথেকে বড় সুখবরটি হলো ভিসা পরিষেবা নিয়ে। গত ১৭ মাস ধরে চলা ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে পর্যটন শিল্পে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তা এবার দূর হতে চলেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসা এবং বিশেষ ডবল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হলেও, ভারতীয় হাই কমিশন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে খুব শীঘ্রই সাধারণ ভ্রমণ ভিসা বা ট্যুরিস্ট ভিসা পরিষেবা পুরোদমে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের এই নতুন বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- পর্যটন শিল্পের পুনরুত্থান: সাধারণ ভিসা চালু হলে ভারতের পর্যটন খাতে বাংলাদেশের পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা আবার বাড়বে।
- পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি: সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সেতু আরও শক্তিশালী হবে।
- আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের এই বোঝাপড়া এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। ভারত সরকারের এই নমনীয় মনোভাব এবং ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, তারা বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।