গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের মাস্টারপ্ল্যান ও ভারতের উপস্থিতি! অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের মাস্টারপ্ল্যান ও ভারতের উপস্থিতি! অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তাঁর উদ্যোগে নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম হাই-ভোল্টেজ বৈঠক সম্পন্ন হলো। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উপস্থিতি যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই বৈঠকের শেষে ট্রাম্পের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। ট্রাম্পের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ রুখে দিয়েছিলেন তিনিই।

গাজা পুনর্গঠনে ৬৩ হাজার কোটির প্যাকেজ

ওয়াশিংটনের এই বৈঠকে ভারতসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনসি খাম্পা। বৈঠক শেষে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কাজাকিস্তান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরবসহ মোট নয়টি দেশ গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকার বেশি) আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বোর্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য গাজায় শান্তি ফেরানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন।

অপারেশন সিঁদুর ও ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি

গাজা প্রসঙ্গ ছাপিয়ে ট্রাম্পের বক্তৃতায় উঠে আসে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার চরম উত্তেজনা প্রশমনে তাঁর প্রশাসনই ছিল প্রধান কারিগর। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ স্বয়ং মার্কিন সেনাপ্রধানের সামনে স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ না থাকলে দুই দেশ এক ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত। এমনকি, ২০০ শতাংশ আমদানিকুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়ে তিনি দুই দেশকেই শান্ত থাকতে বাধ্য করেছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ওই সংঘাতের সময় দুই দেশের অন্তত ১১টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি ও প্রশ্নচিহ্ন

ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। এই শান্তি উদ্যোগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিসি-র পক্ষ থেকে এই দুই নেতার বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, যা নিয়ে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অন্যদিকে, গাজা নিয়ে আলোচনা হলেও প্যালেস্টাইনকে কেন আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ভারতের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ গাজার ভোল বদলে দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পের স্বঘোষিত “ত্রাতা”র ভূমিকা পালনের দাবি যে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *