বঙ্গে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির! লক্ষ্মীর ভান্ডারকে টেক্কা দিতে আসছে ৩০০০ টাকার অন্নপূর্ণা ভান্ডার?

কলকাতা নিউজ ডেস্ক
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলার রাজনীতিতে এখন সাজ সাজ রব। একদিকে শাসক শিবিরের ঘর গোছানো, অন্যদিকে বিজেপির একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা। তবে সব জল্পনাকে ছাপিয়ে এবার বড়সড় ধামাকা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভান্ডার
আসানসোলের কুলটিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু হবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প। যেখানে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের বর্তমান বরাদ্দকে কার্যত নস্যি করে দিয়ে বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বর্তমান সরকার কোষাগারের দোহাই দিয়ে মহিলাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে, যা বিজেপি ক্ষমতায় এলে ঘুচিয়ে দেবে।
কুলটিতে তৃণমূল ও বাম শিবিরে ধস
ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশের আগেই ঘর ভাঙার খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় পোদ্দারের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে বিজেপি শিবিরে যোগ দিলেন শতাধিক তৃণমূল ও বাম কর্মী-সমর্থক। এদের মধ্যে অন্যতম হেভিওয়েট নাম তৃণমূল নেতা বুম্বা চৌধুরী। দলত্যাগের পর বিস্ফোরক বুম্বা জানান, তৃণমূল এখন একটি ‘কো ম্পা নি’তে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ কর্মীদের কোনো গুরুত্ব নেই। যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতা বাদল পুইতুন্ডি। তাঁর মতে, মহাসমুদ্র থেকে দু-এক ফোঁটা জল কমলে দলের কোনো ক্ষতি হয় না।
বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য ও পুলিশি চ্যালেঞ্জ
জনসভা থেকে রাজ্য পুলিশ এবং তৃণমূলের আঁতাত নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান রাজ্য সভাপতি। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত পুলিশই মোতায়েন করুন না কেন, বিজেপির জয় নিশ্চিত। এমনকি হুমায়ুন কবীরকে ‘তৃণমূলের বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সরকার গড়তে আসন কম পড়লে তাঁকে ব্যবহারের ছক কষছে শাসক দল।
পালটা ধাক্কা পাহাড়ে
বিজেপি যখন দক্ষিণবঙ্গে শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গে বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। কার্শিয়াং-এর দাপুটে বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর দাবিতে কর্ণপাত না করায় ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
নির্বাচনের আগে এই টানাপোড়েন এবং ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি বাংলার জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।