পিপিএফ নাকি সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা কোথায় টাকা রাখলে আপনার লাভ হবে সবথেকে বেশি

ভারতের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সঞ্চয় মানেই এক নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের সোপান হিসেবে পিপিএফ (PPF) এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পগুলো বরাবরই জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে। তবে অধিকাংশ মানুষই এই স্কিমগুলোকে কেবল আয়কর বাঁচানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। প্রকৃত অর্থে এই ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা কর ছাড়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত। কেন এই প্রকল্পগুলো আপনার আর্থিক পোর্টফোলিওতে থাকা জরুরি এবং কোনটিতে বিনিয়োগ করলে আপনি বেশি লাভবান হবেন তার একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন।
নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন সরকারি গ্যারান্টি
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তা থাকে মূলধনের নিরাপত্তা নিয়ে। শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন আকর্ষণীয় হলেও সেখানে ঝুঁকির ভয় থেকেই যায়। পিপিএফ বা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার ক্ষেত্রে সেই ভয় নেই বললেই চলে। যেহেতু এই প্রকল্পগুলো সরাসরি ভারত সরকার দ্বারা পরিচালিত ও সমর্থিত তাই এখানে আপনার গচ্ছিত প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য যেমন সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা নিজের অবসর জীবনের জন্য এই নিশ্চিন্ত নিরাপত্তা অত্যন্ত কার্যকর।
সুদের হারের আকর্ষণ ও চক্রবৃদ্ধি মুনাফার ম্যাজিক
সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় এই প্রকল্পগুলোতে সুদের হার অনেক বেশি থাকে। সরকার প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের হার পর্যালোচনা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনাতে তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়া যায় যা কন্যাসন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল সম্পদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া পিপিএফ-এর মতো ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি স্কিমে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding Interest) সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ আপনার আসলের ওপর অর্জিত সুদের ওপরও পুনরায় সুদ যোগ হতে থাকে যা দীর্ঘ সময় পর একটি বিশাল অঙ্কের তহবিল তৈরি করে দেয়।
কর ছাড়ের ট্রিপল সুবিধা বা ইইই (EEE) ক্যাটাগরি
পিপিএফ এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ কারণ এই দুটি প্রকল্পই ‘ইইই’ (Exempt-Exempt-Exempt) স্তরের অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ হলো বিনিয়োগ করার সময় আপনি কর ছাড় পাবেন অর্জিত সুদের ওপর কোনো কর দিতে হবে না এবং যখন স্কিমটি পূর্ণ হবে বা টাকা তুলবেন তখনও কোনো কর দিতে হবে না। এই ত্রিস্তরীয় কর সুবিধা আপনার নিট লাভের পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
আর্থিক শৃঙ্খলা ও সঞ্চয়ের অভ্যাস
এই প্রকল্পগুলোর একটি বিশেষ দিক হলো নির্দিষ্ট সময়ের লক-ইন পিরিয়ড। চাইলেই হুট করে টাকা তুলে ফেলা যায় না বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি আর্থিক শৃঙ্খলা তৈরি হয়। এটি পরোক্ষভাবে আপনাকে অপচয় রোধ করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী সম্পদ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC) বা পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটের মতো বিকল্পগুলোও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের চমৎকার মাধ্যম হতে পারে।
পরিশেষে কেবল কর বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নয় বরং একটি সুরক্ষিত এবং নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এই সরকারি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলো আপনার জীবনের মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা করে নিয়মিত বিনিয়োগ শুরু করলে আপনিও পেতে পারেন আর্থিক স্বাধীনতার স্বাদ।