অমিত শাহকে নিয়ে করা পুরনো মন্তব্যে বড় মোড়, সুলতানপুর আদালতে কী বয়ান দিলেন রাহুল গান্ধী?

অমিত শাহকে নিয়ে করা পুরনো মন্তব্যে বড় মোড়, সুলতানপুর আদালতে কী বয়ান দিলেন রাহুল গান্ধী?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে করা সেই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত সুলতানপুরের এমপি/এমএলএ আদালতে হাজিরা দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রায় আট বছরের পুরনো এক মানহানি মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার কঠোর নির্দেশের পর আদালতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে বিচারকের সামনে নিজের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর দাবিও করেছেন রাহুল।

আদালতের কাঠগড়ায় ২০ মিনিট

দিল্লি থেকে লখনউ বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সুলতানপুর আদালতে পৌঁছান রাহুল গান্ধী। আদালতের ভেতরে প্রায় ২০ মিনিট ছিলেন তিনি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১৩ ধারায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। রাহুলের আইনজীবী কাশী শুক্লা জানান, বিচারকের সামনে রাহুল অত্যন্ত বিনম্র ছিলেন এবং হাতজোড় করে সকলকে অভিবাদন জানান। তবে বয়ান দেওয়ার সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

‘রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই এই মামলা’

আদালতে দেওয়া বয়ানে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে এই মামলা করা হয়েছে এবং এর কোনো মজবুত ভিত্তি নেই।” উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কর্নাটকের এক জনসভায় বিজেপি এবং অমিত শাহকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে সুলতানপুরের বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র এই মানহানি মামলা দায়ের করেছিলেন। এর আগে আদালত রাহুলকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, এবার হাজিরা না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৯ মার্চ, ২০২৬।

জুতো সেলাই করা সেই মোচির বাড়িতে রাহুল

আদালতের কাজ শেষ করে লখনউ ফেরার পথে রাহুল গান্ধী মানবিক এক নজির গড়েন। তিনি সোজা চলে যান প্রয়াত রামচেত মোচির বাড়িতে। বছরখানেক আগে সুলতানপুরের এই মোচির দোকানে বসে নিজেই জুতো সেলাই করেছিলেন রাহুল, যা দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। পরে রামচেতকে একটি আধুনিক সেলাই মেশিনও উপহার পাঠিয়েছিলেন তিনি। তিন মাস আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রামচেতের মৃত্যু হয়েছে। এদিন তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান কংগ্রেস নেতা।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৮ সালের ৪ অগস্ট দায়ের হওয়া এই মামলার মূলে ছিল রাহুলের একটি বক্তব্য। অভিযোগ, তিনি বলেছিলেন যে দল সততার কথা বলে, সেই দলেরই তৎকালীন সভাপতি খুনের মামলায় অভিযুক্ত। এই বয়ানকে কেন্দ্র করেই আইনি লড়াই শুরু হয়। আগামী ৯ মার্চ আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি ও তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *