ঘরের বিষাক্ত বাতাস কাড়বে নাসার অনুমোদিত এই ৫ জাদুকরী ইনডোর প্ল্যান্ট

ঘরের বিষাক্ত বাতাস কাড়বে নাসার অনুমোদিত এই ৫ জাদুকরী ইনডোর প্ল্যান্ট

ঘরের চারদিকের দেওয়াল আর আসবাবপত্র কি আপনার অজান্তেই বিষিয়ে দিচ্ছে আপনার ফুসফুস? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। আমাদের অনেকেরই ধারণা ঘরের ভেতরের বাতাস বাইরের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু বাস্তুবিক চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঘরের আসবাবপত্রের বার্নিশ, দেয়ালের রং থেকে নির্গত হওয়া ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (VOCs), সূক্ষ্ম ধুলিকণা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে ঘরের বাতাস বাইরের থেকেও কয়েক গুণ বেশি দূষিত হয়ে উঠতে পারে।

১৯৮৯ সালে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) তাদের একটি বিশেষ গবেষণায় (‘Interior Landscape Plants for Indoor Air Pollution Abatement’) প্রমাণ করেছে যে, কিছু নির্দিষ্ট গাছ ঘরের বাতাস থেকে বেনজিন, ফরমালডিহাইড এবং ট্রাইক্লোরোইথিলিনের মতো মরণঘাতী টক্সিন শুষে নিতে সক্ষম। আধুনিক ইলেকট্রনিক এয়ার পিউরিফায়ার হয়তো দ্রুত কাজ করে, কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে এই গাছগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভারতীয় জলবায়ু এবং আধুনিক অন্দরসজ্জার কথা মাথায় রেখে নাসা-অনুমোদিত সেরা ৫টি গাছের বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

১. স্নেক প্ল্যান্ট (Snake Plant)

সাধারণভাবে এটি ‘মাদার-ইন-ল’স টাং’ নামেও পরিচিত। ভারতীয় অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বদ্ধ পরিবেশের জন্য এটি একপ্রকার আশীর্বাদ। কারণ এটি খুব কম আলো এবং অত্যন্ত অনিয়মিত জলেও দিব্যি বেঁচে থাকে। নাসার মতে, এটি বাতাস থেকে ফরমালডিহাইড এবং বেনজিন ফিল্টার করতে ওস্তাদ। এই গাছের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি রাতেও অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা আপনার গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাই শোবার ঘরের জন্য এটিই সেরা পছন্দ।

যত্ন: খুব সামান্য জল দিন এবং সরাসরি রোদ না লাগে এমন জায়গায় রাখুন।

২. আরেকা পাম (Areca Palm)

যাঁরা ঘরের ভেতর একটু ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল ছোঁয়া পছন্দ করেন, তাঁদের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত আরেকা পাম। এটি বাতাস থেকে টক্সিন দূর করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ার হিসেবে কাজ করে ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখে। বিশেষ করে এয়ারকন্ডিশনড (AC) ঘরে যেখানে বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে যায়, সেখানে এই গাছ দারুণ কার্যকর।

যত্ন: উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে রাখুন। টবের উপরিভাগের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন।

৩. পিস লিলি (Peace Lily)

সাদা ফুলের এই মোহময়ী গাছটি কেবল ঘরের আভিজাত্যই বাড়ায় না, বরং বাতাস থেকে অ্যামোনিয়া এবং বেনজিনের মতো জটিল দূষক দূর করে। তবে একটি সতর্কতা জরুরি—আপনার বাড়িতে যদি বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণী থাকে, তবে গাছটি তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। কারণ এর পাতা পেটে গেলে প্রাণীদের বিষক্রিয়া হতে পারে।

যত্ন: কম থেকে মাঝারি আলোতে এটি ভালো থাকে। মাটি সবসময় সামান্য ভেজা বা আর্দ্র রাখার চেষ্টা করুন।

৪. স্পাইডার প্ল্যান্ট (Spider Plant)

যাঁরা বাগান করায় একদম নতুন বা যাঁদের হাতে সময় কম, তাঁদের জন্য স্পাইডার প্ল্যান্ট আদর্শ। বাতাস থেকে কার্বন মনোক্সাইড এবং ফরমালডিহাইড সরাতে এর জুড়ি মেলা ভার। ভারতের আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ঝুলন্ত টব বা হ্যাঙ্গিং বাস্কেটে এটি দেখতে অপূর্ব লাগে।

যত্ন: উজ্জ্বল আলো এবং পরিমিত জল পেলেই এটি সতেজ থাকে।

৫. মানিপ্ল্যান্ট বা পোথোস (Money Plant)

ভারতের প্রায় প্রতিটি ঘরেই এই পরিচিত লতানো গাছটি দেখা যায়। মাটি বা জল—উভয় মাধ্যমেই এই গাছ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। নাসার গবেষণা বলছে, ঘরোয়া দূষণ কমাতে এই সাধারণ মানিপ্ল্যান্ট অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এটি বাতাস থেকে দ্রুত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।

যত্ন: খুব কম আলোতেও এটি মানিয়ে নেয়। সপ্তাহে একদিন বা মাটি শুকিয়ে গেলে জল দিলেই যথেষ্ট।

সুস্থ থাকতে এবং ফুসফুসকে সতেজ রাখতে আজই আপনার অন্দরসজ্জায় যুক্ত করুন এই সবুজ বন্ধুদের। আপনার কি মনে হয় এই গাছগুলো কি আসলেই ইলেকট্রনিক এয়ার পিউরিফায়ারের জায়গা নিতে পারবে? ওপরে বর্ণিত গাছগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার সবচেয়ে প্রিয় বা আপনি বাড়িতে লাগাতে চান তা আমাদের জানাতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *