প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে বিপত্তি: গ্যালগটিয়াস ইউনিভার্সিটির ‘রোবট কুকুর’ নিয়ে বিতর্ক

প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে বিপত্তি: গ্যালগটিয়াস ইউনিভার্সিটির ‘রোবট কুকুর’ নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই সামিট’-এ গ্যালগটিয়াস ইউনিভার্সিটির একটি স্টলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল যে প্রদর্শিত চারপেয়ে ‘রোবট কুকুর’টি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবন। তবে প্রদর্শনী চলাকালীন প্রকাশ পায় যে যন্ত্রটি আসলে চিনা সংস্থা ‘Unitree Robotics’-এর তৈরি পণ্য। এই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আয়োজকরা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্টলটি সরিয়ে দেন। এই ঘটনাটি ভারতীয় প্রযুক্তি গবেষণার গভীরতা এবং নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ভুল নয়, বরং এটি ভারতের প্রযুক্তি খাতের এক বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন। ২০২৬ সালেও ভারত উচ্চমানের প্রসেসর বা মেমোরি চিপ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। দেশের অধিকাংশ এআই স্টার্ট-আপ এখনও বিদেশি মডেল ও পরিকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। মৌলিক গবেষণার পরিবর্তে বিদেশি প্রযুক্তিতে দেশি মোড়ক লাগিয়ে প্রচার করার এই প্রবণতা ভারতের ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ অর্জনের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকৃত প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব কেবল পণ্য সংযোজন বা প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে আসে না, বরং তা আসে মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে। মেধাসত্ত্বের অভাব এবং গবেষণাগারের পরিবর্তে প্রদর্শনীর চাকচিক্যের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যালগটিয়াস ইউনিভার্সিটির এই কাণ্ডটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, প্রকৃত ‘সুপারপাওয়ার’ হতে হলে ভারতকে কেবল প্রচার নয়, বরং ল্যাবরেটরির কঠিন পথে হেঁটে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *