ছেলেধরা সন্দেহে মা-মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, ৯ বছর পর চুঁচুড়া আদালতে ২৫ জনের বড় সাজা

২০১৭ সালের সেই হাড়হিম করা ঘটনা মনে আছে? হুগলির বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও কন্যাকে ‘ছেলেধরা’ সাজিয়ে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল উত্তেজিত জনতা। সেই নারকীয় ঘটনার ৯ বছর পর অবশেষে এল বড় রায়। শুক্রবার হুগলির চুঁচুড়া ফাস্ট ট্র্যাক আদালত এই মামলায় ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছে।
আদালতের রায়ে মূল দুই অভিযুক্ত গোপাল রায় এবং পূর্ণিমা মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ২৩ জন দোষীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক পীযূষকান্তি রায়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন মহিলাও রয়েছেন।
ফিরে দেখা সেই অভিশপ্ত দিন
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় মা, মেয়ে এবং তাঁদের চালককে ঘিরে ধরে গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যে রটে যায় তাঁরা ‘ছেলেধরা’। এরপরই শুরু হয় নৃশংস গণপ্রহার। তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। উত্তেজিত জনতার ছোঁড়া তিরে এক সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন এবং মোট ১১ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছিলেন।
আইনি লড়াই ও জয়
তদন্তকারী অফিসার অলক চট্টোপাধ্যায়ের পেশ করা চার্জশিট এবং ২৭ জন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ৩২৬ ও ৩৩৩-সহ একাধিক ধারায় দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। বিবাদী পক্ষের ৭ জন আইনজীবীর সওয়াল চললেও, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে শেষরক্ষা হয়নি অপরাধীদের। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে কড়া বার্তা দেওয়া গেল বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।