ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি অতীত, নিজের খাসতালুকে ফিরছেন শিলিগুড়ির মেয়র

শিয়রে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রার্থী তালিকা নিয়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ময়দানে আছড়ে পড়ল এক বিশাল বড় চমক। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খোদ মেয়র গৌতম দেব নিজেই জানিয়ে দিলেন তার আগামী রণকৌশল। দীর্ঘদিনের পরিচিত নির্বাচনী কেন্দ্র ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ছেড়ে এবার তিনি লড়াই করবেন নিজের জন্মভূমি শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই। শুক্রবার ফুলবাড়ির এক সরকারি অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মেয়রের এই বিস্ফোরক ঘোষণা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
হারের গ্লানি মুছে ঘরের মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয়েছিল গৌতম দেবকে। হারের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে তিনি হয়তো কেন্দ্র বদল করতে পারেন। এদিন সেই জল্পনাতেই শিলমোহর দিলেন তিনি। গৌতম দেবের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে দাঁড়াচ্ছি না। প্রকাশ্যে বলে যাচ্ছি, আমি আমার জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি।” মেয়রের এই আবেগঘন ঘোষণা একদিকে যেমন শিলিগুড়ির সমর্থকদের উৎসাহিত করেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে— তবে কি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে হারের ভয় থেকেই এই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ?
অভিমান নাকি মাস্টারস্ট্রোক
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে গৌতম দেব কিছুটা আক্ষেপের সুরেই জানান, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় তৃণমূল সরকার যে পরিমাণ উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তা আগে কখনও হয়নি। তা সত্ত্বেও লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে বারবার মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাঁর মতে, মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে কাজ করছে রাজ্য সরকার, অথচ ভোটের ফায়দা তুলছে অন্য দল। এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই তিনি নিজের আদি নির্বাচনী ক্ষেত্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি যেহেতু গৌতম দেবের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র এবং তিনি বর্তমানে সেখানকার মেয়র, তাই এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
দল ঘোষণার আগেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
সাধারণত তৃণমূল কংগ্রেস বা যে কোনও বড় দল নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সবুজ সংকেত দেওয়ার আগেই যেভাবে গৌতম দেব নিজে থেকেই নিজের আসন ঘোষণা করে দিলেন, তাতে দলের অন্দরেও মৃদু চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে এসআইআর পর্ব এখনও চলছে, কোনও দলই প্রার্থী নিয়ে মুখ খোলেনি। এমতাবস্থায় মেয়রের এই আগাম ঘোষণাকে অনেকে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সরাসরি বার্তা পাঠানোর একটি সুনিপুণ কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ জানিয়ে দেবে। তার ঠিক আগেই গৌতম দেবের এই চাল উত্তরবঙ্গের বিধানসভা ভোটের লড়াইকে আরও কয়েক গুণ উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, শিলিগুড়ির ভূমিপুত্রকে তাঁর ঘরের মাঠ আগামী নির্বাচনে কতটা দুহাত ভরে আশীর্বাদ দেয়।