সন্তানের আচরণে কি কেবল মা-বাবার দায়? যা বলছে আধুনিক গবেষণা

সন্তানের জেদ, রাগ বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক সময় অভিভাবকরা নিজেদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মেধা গঠনে মা-বাবার শাসন বা লালন-পালনের চেয়েও জন্মগত জিনতত্ত্বের (Genetics) ভূমিকা অত্যন্ত প্রবল। যমজ শিশুদের ওপর চালানো দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভিন্ন পরিবেশে বড় হলেও তাদের স্বভাব ও আবেগ প্রকাশের ধরনে যথেষ্ট মিল থাকে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর মানসিক গঠনে সামাজিক পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব কাজ করে। অনেকে মনে করেন বিশেষ কোনো ‘ব্রেন ট্রেনিং’ বা কঠোর অনুশীলনে শিশুর ব্যক্তিত্ব আমূল বদলে ফেলা সম্ভব, কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিত্বের একটি বড় অংশই জন্মগত। তাই সন্তানের যেকোনো ব্যর্থতা বা আচরণের জন্য কেবল নিজেদের দোষারোপ করা যুক্তিযুক্ত নয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, মা-বাবার ভূমিকা একেবারেই গুরুত্বহীন নয়। স্নেহ, নিরাপত্তা এবং সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে অপরিহার্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তানের ভুল আচরণের জন্য অনুশোচনায় না ভুগে বরং তার নিজস্ব সত্ত্বাকে সম্মান করা এবং পাশে থাকাই প্রকৃত ইতিবাচক প্যারেন্টিং।