সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি: সব কথা শেয়ার করা কি সবসময় জরুরি?

সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি: সব কথা শেয়ার করা কি সবসময় জরুরি?

আজকের প্রজন্মের কাছে সম্পর্কের স্বচ্ছতা মানেই সব কথা খোলাখুলি বলা। তবে মনোবিদদের মতে, ‘আমাদের মধ্যে কোনো গোপনীয়তা নেই’—এই ধারণা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা বলছে, মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা ও অনুভূতি নিজের কাছে রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত শেয়ারিং অনেক সময় সঙ্গীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে সম্পর্ককে ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে।

ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির মতে, প্রতিদিনের ক্ষুদ্র ক্ষোভ বা অতীতের অপ্রাসঙ্গিক কষ্ট বারবার প্রকাশ করলে সম্পর্কে দূরত্ব ও বিরক্তি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে হবে। বিশ্বাসভঙ্গ, বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো কখনোই চেপে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে সম্পর্কের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানসিক সুস্থতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুভূতি প্রকাশ যেন অন্যের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। সম্পর্ক মূলত টিকে থাকে পারস্পরিক ভরসা, শ্রদ্ধা এবং মানসিক নিরাপত্তার ওপর। তাই সব কথা বলা নয়, বরং কোন কথাটি কখন বলা প্রয়োজন এবং কোনটি নিজের মধ্যে রাখা শ্রেয়, সেই বোধ বজায় রাখাই একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী সম্পর্কের মূলমন্ত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *