জন্মদিনে রাজপুত্রের হাতে হাতকড়া! এপস্টাইনের সঙ্গে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কি আজীবন জেল হবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর

ব্রিটেনের রাজপরিবারের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন কালো অধ্যায়। প্রয়াত রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়-র প্রিয় পুত্র এবং বর্তমান রাজা চার্লসের ভাই, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করল পুলিশ। ‘এপস্টাইন ফাইলস’ জনসমক্ষে আসার পর যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তাতে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভিত নড়ে গিয়েছে। ১৭শ শতাব্দীর পর অ্যান্ড্রু হলেন প্রথম রাজপরিবার সদস্য, যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলো।
যৌন হেনস্থা ও গুরুতর অভিযোগ
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নাবালিকা পাচার চক্রের অংশ হওয়ার অভিযোগ ছিল। ভার্জিনিয়া জিওফ্রে নামক এক মহিলা দাবি করেছিলেন, তিনি যখন নাবালিকা ছিলেন তখন অ্যান্ড্রু তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। যদিও এর আগে ১৩৫ কোটি টাকা দিয়ে আদালতের বাইরে রফাদফা করেছিলেন রাজপুত্র, কিন্তু সাম্প্রতিক নতুন তথ্যপ্রমাণ তার বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু শুধু যৌন অপরাধেই লিপ্ত ছিলেন না, বরং ব্রিটেনের বাণিজ্য দূত থাকাকালীন দেশের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যও এপস্টাইনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিউরে ওঠা সব তথ্য
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দাবি করা হয়েছে যে, রাজকীয় সম্পত্তি ‘ফ্রগমোর কটেজ’-এ ৬ থেকে ৮ বছরের এক শিশুকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনাকে সমর্থন করেছিলেন অ্যান্ড্রু। ২০২০ সালে এফবিআই (FBI) যে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল, তার ভিত্তিতেই এখন পুলিশি জাল ক্রমশ শক্ত হচ্ছে।
রাজপরিবারের কড়া অবস্থান
রাজা চার্লস ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং কেউই বিচারব্যবস্থার ঊর্ধ্বে নন। প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটনও এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অ্যান্ড্রুর সামরিক সম্মান এবং ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যদি আদালতে এই সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে বাকি জীবনটা কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠেই কাটাতে হতে পারে এই ব্রিটিশ রাজপুত্রকে।