ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি: ডিজিটাল নথি ও হার্ড কপিতে পার্থক্যের সতর্কতা কমিশনের

ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি: ডিজিটাল নথি ও হার্ড কপিতে পার্থক্যের সতর্কতা কমিশনের

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং শুনানি প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগের আবহে নতুন সতর্কবার্তা জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, নথি স্ক্যান বা আপলোড করার পদ্ধতির তারতম্যের কারণে সফটওয়্যারের ডিজিটাল বিশ্লেষণের সঙ্গে এনুমারেশন ফর্মের হার্ড কপি বা ফিল্ড রিপোর্টের অমিল হতে পারে। বিএলও বা ইআরও স্তরে তথ্য আপলোডে ভিন্নতার সম্ভাবনা থাকায় ব্যবহারকারীদের মূল নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারের তথ্যই যে চূড়ান্ত নয়, কমিশনের এই স্পষ্টীকরণ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে জনৈক মৃত ব্যক্তিকে ‘ওকে’ বলে সিস্টেমে নথিভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। আবার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে বাবার পরিচয়পত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড ভুয়ো ভোটার কার্ড জমা দেওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি, গুগলের এআই লোগো সংবলিত সেই বিতর্কিত নথিটি আধিকারিকদের যাচাইয়ে ‘সঠিক’ বলে চিহ্নিত হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি রোধে কমিশন এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নোট অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট এবং শুনানিতে জমা পড়া নথির গুরুত্ব অপরিসীম। ডিজিটাল তথ্য ও আসল কাগজপত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি বা এআই দিয়ে তৈরি জাল নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিএলও এবং ইআরও-দের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে ডিজিটাল বিভ্রাট এড়াতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের প্রতিটি নথি পুনরায় খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *