ভোট শতাংশের হিসেবে বড় রদবদল, বাংলায় ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন ধাক্কা খেল কমিশন

কলকাতা | পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় আইনি মোচড়। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনে এবার নির্বাচন কমিশনের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের বদলে একজন বিচারকের কলম ঠিক করবে যে, রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কাদের নাম থাকবে আর কাদের থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই ‘ঐতিহাসিক’ হস্তক্ষেপে সরগরম হয়ে উঠেছে দিল্লির অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজপথ।
কমিশনের যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় শীর্ষ আদালত
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা মাত্র ৯৫ শতাংশ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারবে, বাকি ৫ শতাংশের যাচাইকরণ এখনও আসাম্পূর্ণ। কমিশনের এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত রায় দেয় যে, আসাম্পূর্ণ তালিকা নিয়ে ভোট করানো সম্ভব নয়।
এবার জজের নজরদারিতে চূড়ান্ত যাচাইকরণ
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকার চূড়ান্ত যাচাইকরণের কাজ এবার থেকে জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অধীনে সম্পন্ন হবে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে জেলা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা জজরা থাকবেন। এই কমিটিই বাকি ৫ শতাংশ ভোটার তালিকার তথ্য খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন নয়, বরং বিচারকদের সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে শেষ কথা বলে গণ্য হবে।
শাসক শিবিরে স্বস্তি, হিংসা নিয়ে সতর্ক আদালত
শীর্ষ আদালতের এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এর ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা দূর হবে এবং নির্বাচন কমিশনই যে সর্বেসর্বা নয়, তা প্রমাণিত হলো। তবে রায় ঘোষণার পাশাপাশি বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন চলাকালীন হিংসার অভিযোগগুলি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতিরা।
২৮ ফেব্রুয়ারির পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট
আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর একটি বিশেষ ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাটি সম্পূর্ণভাবে বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে তৈরি করা হবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটার তালিকা নিয়ে বিচারকদের এই প্রবেশ ভবিষ্যতে ভারতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।