শংকর-সত্যজিৎ-উত্তম: দুই মলাট থেকে রুপোলি পর্দার কালজয়ী যাত্রা

শংকর-সত্যজিৎ-উত্তম: দুই মলাট থেকে রুপোলি পর্দার কালজয়ী যাত্রা

সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় ওরফে শংকরের লেখনী কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রুপোলি পর্দায় বারংবার সৃষ্টি করেছে নতুন ইতিহাস। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ ১৯৬৮ সালে উত্তমকুমারের অভিনয়ে অনন্য মাত্রা পায়, যা পরবর্তীতে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে ২০১৯ সালে ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ নামে পুনর্নির্মিত হয়। শংকরের গল্পের বুনন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মহানায়ক থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের আবীর চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত সকলেই তাঁর সৃষ্ট চরিত্রে প্রাণদান করেছেন।

বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ও শংকরের লেখনীর গুণগ্রাহী ছিলেন। তিনি এই সাহিত্যিকের উপন্যাস অবলম্বনে উপহার দিয়েছেন ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘জন অরণ্য’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র। শুধু বাংলা সিনেমা নয়, তপন সিংহের ‘এক যে ছিল দেশ’ ছবিতেও শংকরের গল্পের প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর কাহিনী বিন্যাস সামাজিক বাস্তবতাকে এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলত যে তা কিংবদন্তি পরিচালকদের বারবার অনুপ্রাণিত করেছে।

শংকরের সাহিত্যিক খ্যাতি বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছিল বলিউডেও। পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘মান সম্মান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন হিন্দি ছবি ‘শীশা’, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বড় পর্দা ছাড়াও ছোট পর্দা এবং মঞ্চেও তাঁর লেখনী সমানভাবে সমাদৃত হয়েছে। সদ্যপ্রয়াত এই সাহিত্যিকের সৃষ্টিসমূহ আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে রয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *