লিঙ্গ পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় বাড়ছে তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক, দিল্লির এইমস-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর ট্রান্সজেন্ডার ক্লিনিকে লিঙ্গ পরিবর্তনের আবেদন জানানো তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন নতুন রোগী এই ক্লিনিকে নিজেদের নিবন্ধিত করছেন, যাদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যাই সর্বাধিক। মূলত শারীরিক গঠনের সাথে মানসিক লিঙ্গ পরিচয়ের অমিল থাকার কারণেই এই যুবসমাজ আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
চিকিৎসা প্রক্রিয়ার শুরুতে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে শরীরে পরিবর্তন আনা হয় এবং অন্তত এক বছর রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। মনোরোগ বিভাগের প্রধান প্রফেসর প্রতাপ সরনের মতে, রোগীরা মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না তা নিশ্চিত করার পরই অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় রোগীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত লিঙ্গ পরিচয় অনুযায়ী সামাজিক জীবনযাপনের পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে পরবর্তী জীবনে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
চূড়ান্ত ধাপে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠন করা হয়। প্রফেসর মণীশ সিঙ্ঘল জানিয়েছেন, এই ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার আওতাভুক্ত হওয়ায় রোগীদের ওপর আর্থিক চাপ অনেক কমেছে। এইমস বর্তমানে হরমোন থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং অস্ত্রোপচারের মতো সমস্ত সুবিধা এক ছাদের নিচে প্রদান করে লিঙ্গ রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।