একুশে ফেব্রুয়ারি: রক্তঝরা ইতিহাস থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব বাংলার ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সরকারি বিষয় তালিকা, মুদ্রা ও স্ট্যাম্প থেকে বাংলাকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন, ১৩৫৮) রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে রফিক, জব্বার, সালাম ও বরকতসহ অনেকে শহীদ হন।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। মহান এই আত্মত্যাগের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১০ সালে জাতিসংঘ এই দিবসটিকে বিশ্বব্যাপী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বর্তমানে ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বরাক উপত্যকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে এক পরম গৌরবের দিন। এটি কেবল ভাষা রক্ষার আন্দোলন ছিল না, বরং তা ছিল জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বজুড়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, যা সকল মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বৈশ্বিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।