সীমান্ত গ্রামই হবে দেশের ‘প্রথম গ্রাম’, আসাম সীমান্তে শাহের ৬,৯০০ কোটির মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আসামের গ্রামগুলির ভোল বদলে দিতে এক বিশাল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করল কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা করেছেন। আসামের বরাক উপত্যকার নাতানপুর গ্রাম থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সীমান্তের গ্রামগুলি আর অবহেলিত ‘শেষ গ্রাম’ নয়, বরং উন্নয়নের নিরিখে এগুলিই হবে দেশের ‘প্রথম গ্রাম’।
উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্টে যা থাকছে
কেন্দ্রীয় সরকারের এই মেগা প্রকল্পে ব্যয় করা হবে প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধুনিক নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের অধীনে যে ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে সেগুলি হলো:
- উন্নত পরিকাঠামো: পাকা রাস্তা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা।
- ডিজিটাল সংযোগ: সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: আধুনিক স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
- কর্মসংস্থান: স্থানীয় স্তরে স্বনির্ভরতা বাড়াতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা।
পরিসংখ্যানের নজরে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ II’
এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশজুড়ে ১৭টি রাজ্যের ৩৩৪টি ব্লক এবং ১,৯৫৪টি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামের গুরুত্ব অপরিসীম। রাজ্যটির ৯টি জেলার ২৬টি ব্লক এবং ১৪০টি সীমান্ত গ্রাম এই উন্নয়নের অংশীদার হতে চলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে স্যানিটেশন এবং সংযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও জনবসতি
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সীমান্ত গ্রামগুলিকে দেশের মূল স্রোতের সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী জনবসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, যা পরোক্ষভাবে জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে। যখন সীমান্তের মানুষ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তখন এলাকা থেকে জনবসতি সরে যাওয়ার প্রবণতা কমবে, যা সীমান্ত রক্ষায় সহায়ক হবে।
আগামীর প্রত্যাশা
এককালে যে গ্রামগুলি মানচিত্রের প্রান্তে ব্রাত্য হয়ে পড়ে থাকত, আজ সেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বরাক উপত্যকা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। কেন্দ্রের এই বিশাল বিনিয়োগ কি পারবে সীমান্তের প্রান্তিকতা ঘুচিয়ে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব আনতে? উত্তর দেবে সময়।