সুপ্রিম কোর্টের তোয়াক্কা নেই, ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কাও টলাতে পারল না ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের বিশ্বজুড়ে আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করলেন তিনি। শুক্রবারই আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে বিপুল শুল্ক চাপানোর কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। কিন্তু সেই রায় আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পালটা হুঙ্কার ছাড়লেন ট্রাম্প।
আদালতের রায় বনাম ট্রাম্পের জেদ
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের বেঞ্চ ৬-৩ ব্যবধানে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। কিন্তু হার মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিস থেকে নতুন নির্দেশে স্বাক্ষর করে জানান, এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক অবিলম্বে কার্যকর হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে এই হার আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
ভারতের জন্য স্বস্তির খবর
বিশ্বজুড়ে শুল্কের খাঁড়া নামিয়ে আনলেও ভারতের ক্ষেত্রে সুর নরম রেখেছেন ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যিক চুক্তি অপরিবর্তিত থাকবে। ট্রাম্পের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন মহান ব্যক্তি। আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট নমনীয় ও ন্যায্য অবস্থান নিয়েছেন।” ফলে ট্রাম্পের এই নয়া ‘শুল্ক যুদ্ধে’ বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিপাকে পড়লেও, নয়াদিল্লির ওপর তার বিশেষ প্রভাব পড়ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন এই সংঘাত
ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে এই শুল্ক অপরিহার্য। অন্যদিকে, আইনজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যেভাবে বিচারবিভাগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকছেন, তাতে আমেরিকায় এক গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও কীভাবে এই নয়া শুল্ক কার্যকর করা হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
আগামী দিনে বিশ্ববাজারে এই সিদ্ধান্তের কী প্রভাব পড়ে এবং সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই অবাধ্যতার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।