দিল্লী ওড়ানোর ছক লস্করের, লালকেল্লা সংলগ্ন মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণের বড়সড় নাশকতার সতর্কতা

দিল্লী ওড়ানোর ছক লস্করের, লালকেল্লা সংলগ্ন মন্দিরে আইইডি বিস্ফোরণের বড়সড় নাশকতার সতর্কতা

দেশের রাজধানীতে আবারও ঘনিয়ে আসছে বিপদের কালো মেঘ। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা দিল্লীর বুকে এক ভয়াবহ নাশকতার ছক কষছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঐতিহাসিক লালকেল্লা সংলগ্ন চাঁদনি চক এলাকার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জনবহুল মন্দিরকে।

আইইডি বিস্ফোরণের নীল নকশা

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জনাকীর্ণ চাঁদনি চক এলাকায় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি ব্যবহার করে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে জঙ্গিরা। শুধুমাত্র লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকা নয়, এই তালিকায় দেশের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান ও সংবেদনশীল এলাকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ইনপুট পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দিল্লী পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে পারে রাজধানী

প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৬ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ৩১ জনের মৃত্যু হয়। যদিও সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট, কিন্তু গোয়েন্দাদের অনুমান, সেই ঘটনার পাল্টা ‘প্রতিশোধ’ নিতেই লস্কর-ই-তৈবা ভারতে এই নাশকতার জাল বুনেছে। সীমান্ত পারের এই ষড়যন্ত্র রুখতে নিরাপত্তা বলয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লীতে হাই অ্যালার্ট এবং ট্রাফিক বিধিনিষেধ

গণতন্ত্র দিবসের আগে থেকেই খলিস্তানি এবং বাংলাদেশ ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের নাশকতার ছক নিয়ে সতর্কবার্তা ছিলই। তার ওপর এই নতুন ইনপুট দিল্লী প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, পাঞ্জাবের কিছু গ্যাংস্টার বিদেশের মাটিতে বসে থাকা কট্টরপন্থী নেতাদের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তল্লাশি অভিযানের সুবিধার্থে দিল্লীর বেশ কিছু রাস্তায় ট্রাফিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ রাত ৮টা পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। লালকেল্লা এবং চাঁদনি চক এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর ড্রোন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

যদিও এই ষড়যন্ত্রের খবর এখনো সরকারিভাবে চূড়ান্ত নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং ধর্মীয় স্থানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অনাথ বস্তু বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখলে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *