স্কুলের মাঠে রঙিন অ-আ-ক-খ! খুদেদের বাংলা চেনাতে অভিভাবকদের এই অভিনব কায়দা মন জয় করল নেটপাড়ার

স্কুলের মাঠে রঙিন অ-আ-ক-খ! খুদেদের বাংলা চেনাতে অভিভাবকদের এই অভিনব কায়দা মন জয় করল নেটপাড়ার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে আলিপুরদুয়ারের একটি স্কুল প্রাঙ্গণে ধরা পড়ল এক অন্যরকম ছবি। যেখানে বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা বাড়ছে বলে আক্ষেপ করেন অনেকে, সেখানে একদল অভিভাবক রুখে দাঁড়ালেন সেই ধারণার বিরুদ্ধে। স্রেফ বইয়ের পাতায় নয়, বরং খেলার ছলে আল্পনা বা রঙ্গোলির মাধ্যমে খুদেদের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল বাংলার বর্ণমালা।

কেন এই অভিনব উদ্যোগ

আজকের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার ভিড়ে অনেক শিশুই বাংলা বলতে পারলেও বর্ণমালার সঙ্গে তাদের পরিচয় কার্যত ফিকে হয়ে যাচ্ছে। অনেক বাবা-মায়ের মুখেই শোনা যায়, “আমার সন্তান বাংলাটা ঠিক বুঝতে পারে না।” এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি বদলাতেই কোমর বেঁধে নেমেছিলেন আলিপুরদুয়ারের ওই স্কুলের প্রায় ১৫ জন অভিভাবক। তাঁদের মতে, যে ভাষার জন্য শহিদেরা রক্ত দিয়েছেন, সেই ভাষার বুনিয়াদ অর্থাৎ ‘অ-আ-ক-খ’ না চিনলে ভাষা দিবস পালন অর্থহীন।

রঙ্গোলিতে ফুটে উঠল অক্ষর

স্কুলের মাঠকে ক্যানভাস বানিয়ে অভিভাবকরা নিপুণ হাতে তৈরি করেন বিশালাকার রঙ্গোলি। আবির আর রঙের ছোঁয়ায় সেখানে ফুটে ওঠে বাংলা বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর। বর্ণিল সেই অক্ষরগুলোর টানে ভিড় জমায় স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা। কৌতূহলী চোখে তারা চিনতে শুরু করে তাদের মাতৃভাষার প্রতিটি ভাঁজ। অভিভাবকরা জানান, এই রঙিন উপস্থাপনা শিশুদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে, যা গতানুগতিক পঠন-পাঠনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা

২১শে ফেব্রুয়ারি মানেই কেবল প্রভাতফেরি বা গান নয়, বরং নিজের শেকড়কে চেনা। অভিভাবকদের এই ছোট কিন্তু শক্তিশালী পদক্ষেপ বার্তা দিল যে, বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়েও নিজের ভাষাকে সগৌরবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। আলিপুরদুয়ারের এই উদ্যোগ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়োচ্ছে, যা অন্য স্কুল এবং অভিভাবকদের কাছেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *