বিশ্বকাপে ছোটদের দাপট: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুছে যাচ্ছে শক্তির ব্যবধান

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা ও ইটালির মতো দলগুলোর লড়াকু পারফরম্যান্স ক্রিকেটবিশ্বের তথাকথিত শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিভেদরেখা মুছে দিয়েছে। জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার চোখে চোখ রাখা লড়াই প্রমাণ করেছে যে, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে এখন আর কোনো দলই ‘দুর্বল’ নয়। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পাওয়ার হিটিংয়ের দাপটে যেকোনো দিন যেকোনো বড় শক্তিকে ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখছে এই উদীয়মান দেশগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রসার এবং আইসিসি-র পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন দেশের লিগে খেলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সান্নিধ্যে আসায় ছোট দেশগুলোর খেলোয়াড়দের ভয়ডরহীন মানসিকতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশ থেকে যাওয়া প্রবাসী ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি দলগুলোর শক্তিবৃদ্ধি করেছে। স্টুয়ার্ট ল বা গ্যারি কার্স্টেনের মতো অভিজ্ঞ কোচদের হাত ধরে তাদের রণকৌশলও এখন অনেক বেশি আধুনিক ও কার্যকর।
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ক্রিকেটেও এখন নিয়মিত অঘটন দেখা যাচ্ছে, যা প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা প্রয়োজন। গাওস্করের মতো কিংবদন্তিরা মনে করেন, ক্যাচিং ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে পারলে আগামী দিনে এই দলগুলো বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। বড় মঞ্চে নিজেদের পরিচিতি ও সম্মান আদায়ের এই লড়াই এখন স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত কঠোর পরিশ্রমের ফসল।