ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে একাই ধসিয়ে দিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতিকে কার্যত অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। আর এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে প্রধান কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীর নাম। তাঁর তীক্ষ্ণ সওয়ালের জেরেই শীর্ষ আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কে এই নীল কাটিয়াল?
শিকাগোর এক ভারতীয় অভিবাসী পরিবারে জন্ম নীলের। বাবা চিকিৎসক এবং মা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মেধাবী নীল পড়াশোনা করেছেন ডার্টমাউথ কলেজ এবং ইয়েল ল’স্কুলে। এর আগে ওবামা প্রশাসনের সময় আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলার মতো হাই-প্রোফাইল মামলাতেও বিশেষ সরকারি আইনজীবী ছিলেন এই দুঁদে আইনজ্ঞ।
কেন এই শুল্কযুদ্ধ?
১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু নীল কাটিয়াল আদালতে প্রমাণ করে দেন যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে এই কর চাপাতে পারেন না। এটি সংবিধান বহির্ভূত এবং প্রেসিডেন্টের এক্তিয়ারের বাইরে।
সংবিধানের জয়
আদালতের রায়ের পর নীল কাটিয়াল স্পষ্টভাবে জানান, এই জয় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষার জয়। তিনি বলেন, “আমেরিকায় জনগণের ওপর কর আরোপ করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ হলেও সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।”
বর্তমানে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল সেন্টারের অধ্যাপক এবং নামী আইনি সংস্থার সহযোগী নীলকে তাঁর কাজের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘এডমুন্ড র্যান্ডলফ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। টানা দু’বছর ফোর্বসের সেরা ২০০ আইনজীবীর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিভা।