আগুনের ভয় কাটিয়ে নতুুন রূপে ফিরছে জলদাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো

জলদাপাড়া: উত্তরবঙ্গের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ জলদাপাড়ার সেই স্মৃতিবিজড়িত হলং বনবাংলো আবারও স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়ার পর, এবার আধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নিরাপত্তা বলয়ে বাংলোটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব কিছু ঠিক থাকলে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই এই প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
১৯৬৭ সালে তৈরি হওয়া কাঠের তৈরি পুরনো বাংলোটি পর্যটকদের কাছে ছিল আবেগের জায়গা। তবে আগুনের ঝুঁকি এড়াতে এবার আর কেবল কাঠ নয়, বরং কাঠ ও কংক্রিটের এক বিশেষ সংমিশ্রণে তৈরি হবে নতুন কাঠামো। বন দফতর সূত্রে খবর, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আইন মেনে সরাসরি কংক্রিট ব্যবহার না করে বিশেষ অগ্নিরোধী (Fire-resistant) উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এতে বাংলোর সেই পুরনো নান্দনিক রূপ বজায় থাকবে, আবার অগ্নিকাণ্ডের ভয়ও থাকবে না।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
- বাজেট: রাজ্য সরকার এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের জন্য মোট ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
- কক্ষ সংখ্যা: আগের মতোই এখানে ৮টি আধুনিক মানের কক্ষ থাকবে।
- নিরাপত্তা: অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং আগুনের শিখা প্রতিরোধক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে নতুন সূচনা
ইতিমধ্যেই নির্মাণকারী সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কাজের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহলে খুশির হাওয়া। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, হলং বাংলো নতুন করে চালু হলে ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে ফের জোয়ার আসবে।