আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৬ দিন পর ১৮টি পরিবারের অপেক্ষার অবসান, আজই হাতে মিলবে প্রিয়জনের দেহাংশ

আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত আজও দগদগে। দীর্ঘ ২৬ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের দেহাংশ আজ শনিবার তুলে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের পরিবারের হাতে। সকাল থেকেই নরেন্দ্রপুর থানার বাইরে ভিড় জমিয়েছেন শোকাতুর স্বজনরা। প্রিয়জনের অবশিষ্টটুকু শেষবারের মতো আঁকড়ে ধরার অপেক্ষায় তাঁদের চোখে জল আর মুখে নিস্তব্ধতা।
গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে একটি মোমো তৈরির কারখানা ও ডেকোরেটরের গুদামে লাগা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিলেন অনেকে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ২৭টি দেহাংশ চেনা দায় হয়ে পড়েছিল। অবশেষে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
যাঁদের দেহাংশ আজ তুলে দেওয়া হচ্ছে
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কার্তিক জানা (নন্দকুমার), নান্টু খাড়া (সুতাহাটা), সুব্রত খাড়া (সুতাহাটা), প্রসেনজিৎ ঘড়া (পাঁশকুড়া), সন্দীপ কুমার মাইতি (নন্দকুমার), কৃষ্ণেন্দু ধারা (পিংলা), গুরুপদ সাউ (তমলুক), বাসুদেব হালদার (দক্ষিণ ২৪ পরগনা), বাসুদেব বেরা (পাঁশকুড়া), বুদ্ধদেব জানা (ময়না), বিশ্বজিৎ সাউ (পিংলা), ক্ষুদিরাম দিন্দা (তমলুক), শশাঙ্ক জানা (তমলুক), বিমল মাইতি (তমলুক), জয়দেব মাঝে (পাঁশকুড়া), রামকৃষ্ণ মন্ডল (তমলুক), সুজিত সিং (নন্দকুমার) এবং তপন কুমার দোলুই (পাঁশকুড়া)।
আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে আজই এই দেহাবশেষগুলো পরিজনদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এক মাসের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও যন্ত্রণার পর প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাওয়ার মুহূর্তটি পরিবারগুলোর কাছে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।