বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় সিএএ কার্যকর করতে বড় চাল কেন্দ্রের, গঠিত হলো হাই-প্রোফাইল কমিটি

কলকাতা নিউজ ডেস্ক রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়িয়ে বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় বড়সড় গতি আনল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পরেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কমিটির কাজ ও লক্ষ্য
এই নবগঠিত কমিটিই মূলত ঠিক করবে কারা সিএএ-র অধীনে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টরেট অব সেন্সাস অপারেশনসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবিকে ভোটের আগেই সিলমোহর দিতে চাইছে কেন্দ্র।
কারা থাকছেন এই শক্তিশালী কমিটিতে?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নীতিশ কুমার ব্যাসের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটিতে থাকছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক:
- সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (SIB) ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসার।
- ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (FRRO) প্রতিনিধি।
- ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের (NIC) স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার।
- পোস্টমাস্টার জেনারেল বা ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি।
- আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি এবং রেলের ডিআরএম মনোনীত প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক সমীকরণ
২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলে এই আইন। তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে বিরোধিতা করে আসছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রের এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা কি বাংলার ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ বদলে দেবে? ১১ মার্চ ২০২৪-এ দেশজুড়ে যে সিএএ পরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল, এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাংলায় তা বাস্তবায়নের শেষ ধাপটি পূর্ণ হলো।