একজনের নামে কি একাধিক পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব? জেনে নিন আইনি নিয়ম ও ঝুঁকি

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF) বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নিরাপদ সঞ্চয় মাধ্যম। সরকারি গ্যারান্টি, আকর্ষণীয় সুদ এবং করমুক্ত রিটার্নের সুবিধার কারণে বহু বিনিয়োগকারী পিপিএফ-কে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখেন। তবে অনেক বিনিয়োগকারীর মনেই একটি প্রশ্ন বারবার ঘোরে— বেশি মুনাফা বা সঞ্চয়ের আশায় কি একজন ব্যক্তি নিজের নামে একের বেশি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?
পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মূল নিয়ম
পিপিএফ একটি ১৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প। এই প্রকল্পে একজন বিনিয়োগকারী একটি অর্থবর্ষে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন। এই বিনিয়োগের ওপর অর্জিত সুদ এবং মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থই আয়কর মুক্ত।
একাধিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনের অবস্থান
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড আইন, ১৯৬৮ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ভারতের যেকোনো প্রান্তে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস মিলিয়ে নিজের নামে কেবলমাত্র একটিই পিপিএফ অ্যাকাউন্ট রাখতে পারেন। নিয়ম ভেঙে যদি ভুলবশত কেউ দ্বিতীয় অ্যাকাউন্ট খোলেন, তবে সেটিকে ‘অনিয়মিত’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ভুল করে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুললে কী হবে?
ন্যাশনাল সেভিংস ইনস্টিটিউটের নির্দেশিকা বলছে, একই ব্যক্তির নামে দ্বিতীয় কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে তাতে কোনো সুদ দেওয়া হবে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি (NS শাখা) বরাবর লিখিত আবেদন করতে হয়। অনুমতি সাপেক্ষে দুটি অ্যাকাউন্টকে একীভূত বা মার্জ করা সম্ভব। যদি অ্যাকাউন্টগুলি একীভূত করা না হয়, তবে বাড়তি অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সেখানে জমা পড়া অর্থের ওপর কোনো সুদ পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, শুধুমাত্র মূল টাকাটুকুই ফেরত পাবেন গ্রাহক।
সতর্কতা
পিপিএফ-এ বছরে ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগের কোনো আইনি সুযোগ নেই। তাই বাড়তি সঞ্চয় করতে চাইলে অন্য কোনো সরকারি স্কিম বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিকল্প বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, ‘এক ব্যক্তি, এক পিপিএফ অ্যাকাউন্ট’—এই নিয়ম অমান্য করলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল।