খামেনেই ও তাঁর ছেলেকে খতম করার ছক কষছে ট্রাম্পের পেন্টাগন? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

খামেনেই ও তাঁর ছেলেকে খতম করার ছক কষছে ট্রাম্পের পেন্টাগন? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি পুত্র মোজতবা খামেনেইকে সপরিবারে খতম করার এক চাঞ্চল্যকর সামরিক পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে জমা পড়েছে। পেন্টাগনের এই গোপন ছক ফাঁস হতেই বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আয়োতোল্লা, তাঁর পুত্র এবং ইরানের প্রভাবশালী মোল্লাতন্ত্রকে উপড়ে ফেলার জন্য একাধিক সামরিক বিকল্প তৈরি রাখা হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই চূড়ান্ত হামলার নির্দেশ দেননি, তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট কী পদক্ষেপ নেবেন তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই খামেনেই ও তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে হামলার ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে ওয়াশিংটনে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এলে গোটা আরব দুনিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান যদি অর্থবহ পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটতে চলেছে। ওয়াশিংটন চাইছে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করুক। কিন্তু ইরান একে তাদের সার্বভৌম অধিকার বলে দাবি করে অনড় অবস্থানে রয়েছে। সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা চললেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। কোনো সমঝোতা না হওয়ায় উত্তেজনা কমার বদলে ক্রমশ বাড়ছে।

রণপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম এত বড় আকারে বিমান বাহিনী মোতায়েন করছে আমেরিকা। পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় পাঠানো হয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। জলপথে শক্তি বাড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার। পাশাপাশি আরও একটি বিশালাকার রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ওই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পেন্টাগনের সামরিক কর্তারা জানিয়েছেন, মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ পুরো শক্তি মোতায়েন সম্পন্ন হবে। এখন প্রশ্ন একটাই, ট্রাম্প কি সত্যিই ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধিকারীর ওপর হামলার সবুজ সংকেত দেবেন, নাকি এটি কেবলই তেহরানকে চাপে রাখার কৌশল?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *