সুপ্রিম কোর্টকে তোয়াক্কাই করলেন না ট্রাম্প! উল্টে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ক্ষমতার মসনদে ফিরেই নিজের মেজাজে ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আরোপিত শুল্ককে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করলেও দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। আদালতের রায়কে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিলেন, শুল্ক কমবে তো না-ই, বরং আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর গুনতে হবে আমদানিকারীদের। ট্রাম্পের এই মারকুটে মেজাজে এখন তোলপাড় বিশ্ব বাণিজ্য মহল।
আদালতের রায়েও অনড় ট্রাম্প
আমেরিকার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের বসানো শুল্ক আইনত বৈধ নয়। কিন্তু এই নির্দেশের পরই পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। আদালতের সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ১২২ নম্বর ধারার অধীনে স্বাভাবিক শুল্কের ওপর আরও ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শুল্ক চাপানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই করের বোঝা আরও বাড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
টাকা ফেরতের লড়াইয়ে হাজারো সংস্থা
আদালত ট্রাম্পের নীতিকে অবৈধ বললেও, সংগৃহীত বিপুল অঙ্কের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই টাকা ফেরত পাওয়া মোটেই সহজ হবে না। সরকারি কোষাগার থেকে টাকা ফিরে পেতে গেলে সংস্থাগুলিকে আইনি লড়াই লড়তে হবে। ইতিমদধ্যেই প্রায় হাজারের বেশি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিষয়টি এখন নিম্ন আদালত বা বাণিজ্য আদালতের পর্যবেক্ষণে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাল না কি জেদ?
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের নেপথ্যে গভীর কোনো অর্থনৈতিক কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। একদিকে আদালতের স্থগিতাদেশ, অন্যদিকে ট্রাম্পের নতুন করে কর বৃদ্ধির ঘোষণা— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্ববাজারে মার্কিন বাণিজ্য নীতি নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, আইনি লড়াই আর ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।