মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প, মোদী-বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করে চরম হুঁশিয়ারি রাহুলের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। আর এই রায় সামনে আসতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘আত্মসমর্পণের’ অভিযোগে সরব হয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে রণদীপ সুরজেওয়ালা— প্রত্যেকেরই দাবি, তড়িঘড়ি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে দেশের কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ট্রাম্পের হারে মোদীকে আক্রমণ
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপপ্রয়োগ করে যে বিপুল আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই রায়ের ফলে ভারতের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বা অতিরিক্ত করের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর এই বাড়তি শুল্ক আর কার্যকর করা সম্ভব নয়।
কংগ্রেসের তোপ ও রণদীপ সুরজেওয়ালার ৬ প্রশ্ন
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সরাসরি মোদীকে ‘আপসকামী’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বেইমানি এখন দেশবাসীর সামনে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতের রায় আসার ঠিক কয়েক দিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি কেন তড়িঘড়ি এই বিতর্কিত চুক্তিতে সই করল ভারত সরকার?
সুরজেওয়ালা মোদী সরকারের কাছে একাধিক জ্বলন্ত প্রশ্ন রেখেছেন:
- কৃষক সুরক্ষা: আমেরিকা থেকে খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি করে কেন ভারতীয় কৃষকদের ভাতে মারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে?
- জ্বালানি নিরাপত্তা: দেশবাসীর স্বার্থে কি সরকার এবার সস্তা রুশ ও ইরানি তেল কেনার সাহসী ঘোষণা করবে?
- দেশীয় শিল্প: আগামী ৫ বছর মার্কিন পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আমদানির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা কি দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ধ্বংস করবে না?
- ডিজিটাল নিরাপত্তা: ভারতের তথ্য ও ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে কি সরকারের কোনো মাথাব্যথা আছে?
প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বনাম দেশের সার্বভৌমত্ব
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিজের ‘ভঙ্গুর ভাবমূর্তি’ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আর মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলেই মার্কিন আদালতের এই রায়ের সুবিধা ভারত পেত এবং কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এই বাণিজ্য চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবেই দেখছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বড় ধাক্কার পর মোদী সরকার তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।