ভারতে চ্যাটজিপিটির জয়জয়কার, ১০ কোটি মানুষ এখন এআইয়ের নেশায় বুঁদ

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবে নয়া ইতিহাস গড়ল ভারত। ওপেন এআই-এর জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ভারতে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ভারতের এই বিশাল আধিপত্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
কেন ভারতে এত জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং সুলভ ইন্টারনেট পরিষেবার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। বর্তমানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে করপোরেট পেশাজীবী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার—সবাই নিজেদের দৈনন্দিন কাজে এই এআই টুল ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রোগ্রামিং শেখা এবং ব্যবসায়িক কাজে তথ্য বিশ্লেষণের জন্য চ্যাটজিপিটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও প্রযুক্তির প্রসার
ভারত সরকারের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ এই এআই বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। শুধুমাত্র বড় শহর নয়, দেশের ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এখন এআই-এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি এবং ফিনটেক খাতে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি আরও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বহু ভারতীয় স্টার্টআপ ইতিমধ্যেই তাদের পরিষেবায় জেনারেটিভ এআই যুক্ত করে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
সাফল্যের ভিড়ে কিছু চ্যালেঞ্জ
এই বিপুল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের বিষয়ও সামনে আসছে। তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে হবে এবং এর সীমাবদ্ধতাগুলো মাথায় রাখতে হবে।
ভারতের এই ১০ কোটির মাইলফলক প্রমাণ করে দিল যে ভারত কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্ব ডিজিটাল বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক। আগামী দিনে এই এআই প্রযুক্তি কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কোন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।