বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে এবার বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক! ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে মোদী-রাজ্যে আসছে কড়া আইন

নিউজ ডেস্ক: গুজরাতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত বদল আনতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ও উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ২০০৬ সালের ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইনে বড়সড় সংশোধনী এনে এবার থেকে বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর বাবা-মায়ের সম্মতিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
বদল আসছে যেসব নিয়মে
রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা নতুন সংশোধনী বিল অনুযায়ী, এখন থেকে বিয়ের আবেদনের ১০ দিনের মধ্যে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবককে বিষয়টি সরকারিভাবে জানানো হবে। বাবা-মা সবুজ সংকেত দিলে তবেই সেই বিয়ে আইনত নথিভুক্ত হবে। আবেদনের ফর্মে বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর দেওয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি জানিয়েছেন, গুজরাতের বেশ কিছু জেলা থেকে ভিন্ন ধর্মের বিয়ের খবর আসছিল। সরকারি সূত্রে খবর, এই ঘটনাগুলি আসলে ‘লাভ জিহাদ’-এর অংশ। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, পঞ্চমহল জেলায় যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা নগণ্য এবং কোনো মসজিদ নেই, সেখান থেকেও হিন্দু পাত্রী ও মুসলিম পাত্রের বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের অসংখ্য সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। একই চিত্র দেখা গিয়েছে বনাসকাাঁঠা, মেহসানা এবং নভসারির মতো জেলাগুলিতেও।
নারীর মর্যাদা ও সনাতন ধর্ম রক্ষা
জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সরকারের। মন্ত্রী জানান, নারীর সম্মান এবং সনাতন ধর্মকে রক্ষা করতেই এই আইনি রক্ষা কবচ প্রয়োজন। মূলত ‘পাতিদার আনামত আন্দোলন সমিতি’ গত বছর এই মর্মে সরকারকে স্মারকলিপি দিয়েছিল। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রায় ৩০টি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিলের খসড়া তৈরি হয়।
জনসাধারণের মতামতের সুযোগ
তবে তড়িঘড়ি এই বিল পাস করাচ্ছে না গুজরাত সরকার। সাধারণ মানুষ, বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিরা আগামী এক মাস এই বিলের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁদের মতামত বা পরামর্শ সরকারকে জানাতে পারবেন। সকলের মতামত খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।