বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক তরুণীকে লালসার শিকার বানালেন নামী ইনফ্লুয়েন্সার

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক তরুণীকে লালসার শিকার বানালেন নামী ইনফ্লুয়েন্সার

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর এক লালসার জাল। বাংলার শমীকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেরলে ধরা পড়ল আর এক নামী ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারের কুকীর্তি। ‘তোকেই বিয়ে করব’— এই টোপ দিয়ে একের পর এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আপাতত শ্রীঘরে ত্রিশূরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি যাদু গিরিশ।

বন্ধুত্বের আড়ালে যৌনতার ফাঁদ

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত যাদু গিরিশের ইনস্টাগ্রামে একাধিক অ্যাকাউন্ট ছিল। সেই সব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মূলত তরুণীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন তিনি। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেমের নাটক করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন। অভিযোগ, বিশ্বাস অর্জন করার পর মহিলাদের নিজের ডেরায় ডেকে নিতেন গিরিশ। এরপর চলত জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন। কোনো তরুণী আপত্তি জানালে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একের পর এক অভিযোগের পাহাড়

সম্প্রতি এক তরুণী গিরিশের বিরুদ্ধে থানায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। গিরিশ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর চাউর হতেই আরও দুই তরুণী সাহস করে পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী, যাদু গিরিশ একইভাবে তাঁদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন। ত্রিশূরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে এই ঘটনার শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশের অনুমান, নির্যাতিতার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শমীককাণ্ডের ছায়া কেরলে

এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলার জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার শমীকের কথা। যাঁর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ফ্ল্যাটে বন্দি করে রাখা এবং রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। শমীক বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কেরলের যাদু গিরিশের ক্ষেত্রেও একই প্যাটার্ন লক্ষ্য করছেন তদন্তকারীরা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে গিরিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ার আড়ালে এমন ‘সিরিয়াল অপরাধী’দের বাড়বাড়ন্ত এখন সাধারণ নেটিজেনদের নিরাপত্তার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *