মমতার মঞ্চে অনন্ত মহারাজ থেকে নচিকেতা, বঙ্গবিভূষণ সম্মানে চাঁদের হাট কলকাতায়

শনিবার কলকাতার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের দিকপাল ব্যক্তিত্বদের হাতে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ ও ‘বঙ্গভূষণ’ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বছরের পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় যেমন ছিলেন রাজবংশী নেতা তথা বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ, তেমনই ছিলেন নচিকেতা চক্রবর্তী বা শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীরা।
সম্মানের মঞ্চে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সৌজন্য
এদিন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের সম্মান গ্রহণ। রাজবংশী সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে এই সৌজন্যের ছবি নজর কেড়েছে সকলের।
সাংস্কৃতিক জগতের মহাতারকাদের জয়জয়কার
বাংলা সংগীত ও শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য এদিন একঝাঁক তারকাকে সম্মানিত করা হয়। বঙ্গবিভূষণ পেলেন:
- নচিকেতা চক্রবর্তী ও শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়: বাংলা গানে কয়েক দশকের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।
- শিবাজী চট্টোপাধ্যায় ও লোপামুদ্রা মিত্র: সংগীতের ধারায় নিজস্ব ঘরানা তৈরির জন্য এই সম্মান।
- গণেশ চন্দ্র হালুই: বাংলার চিত্রশিল্পে তাঁর দীর্ঘকালীন সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পদক প্রদান করা হয়।
- এ ছাড়াও তালিকায় ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী এবং কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বঙ্গভূষণ সম্মান ও বিশেষ স্বীকৃতি
বঙ্গবিভূষণের পাশাপাশি এদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট কাজের জন্য ‘বঙ্গভূষণ’ প্রদান করা হয়। এই তালিকায় নাম রয়েছে মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচি, অদিতি মুন্সি এবং কার্তিক দাস বাউলের মতো শিল্পীদের। উল্লেখ্য যে, বিনোদন জগতে বিশেষ অবদানের জন্য এদিন স্টার জলসা ও জি বাংলা চ্যানেলকেও বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এই সম্মান পেয়েছেন সমরেশ মজুমদার, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং বিবেক কুমার। লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী উন্নয়নের জন্য সম্মানিত হয়েছেন কলেন্দ্রনাথ মান্ডি, শ্যামচাঁদ বাগদি এবং নন্দলাল বাউড়ির মতো ব্যক্তিত্বরা।
ভাষার ওপর আক্রমণে সরব মুখ্যমন্ত্রী
পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি এদিন ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ভাষার ওপর কোনো প্রকার আধিপত্য বা আসাম্মান সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ?”
তিনি অভিযোগ করেন, ইদানীং বাংলা ভাষায় কথা বললে অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। ভিন রাজ্যের মানুষরা বাংলায় পরম শান্তিতে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করি না, সবাইকে ভাই-বোনের মতো সম্মান করি। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতি বা ভাষার ওপর কোনো আঘাত এলে আমরা রুখে দাঁড়াবই।”