মোদী-নেতানিয়াহুর মেগা বৈঠকে কাঁপবে শত্রুদেশ! ভারতকে ব্রহ্মাস্ত্র দিচ্ছে ইজরায়েল

মোদী-নেতানিয়াহুর মেগা বৈঠকে কাঁপবে শত্রুদেশ! ভারতকে ব্রহ্মাস্ত্র দিচ্ছে ইজরায়েল

আসন্ন ইজরায়েল সফরে এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে হাঁটতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী সমরাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারতের সামরিক শক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

লেজার প্রযুক্তির ‘আয়ুর্বেদ’ এবং অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ঢাল

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজরায়েল সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা’ সংক্রান্ত মৌ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও এটি কোনো সাধারণ প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের এক কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা। এর আওতায় ইজরায়েল তাদের সবচেয়ে গোপন ও উন্নত প্রযুক্তি ভারতকে দিতে রাজি হয়েছে, যা তারা সচরাচর অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেয় না।

ড্রোন ধ্বংস করতে আসছে ‘আয়রণ বিম’

এই চুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ‘আয়রণ বিম’ বা লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি বিশ্বের প্রথম এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি প্রযুক্তি যা গোলাবারুদ ছাড়াই বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে এবং আলোর গতিতে শত্রুর ড্রোনের ঝাঁক বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই এটি ইজরায়েলি বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ভারত এই প্রযুক্তি পাওয়ার দৌড়ে সবার আগে রয়েছে।

মিশন সুদর্শন এবং ভারতের সুরক্ষা কবচ

ভারত বর্তমানে ‘মিশন সুদর্শন’-এর অধীনে দেশের প্রধান শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করার জন্য একটি নিশ্ছিদ্র আকাশ সুরক্ষা বলয় তৈরির কাজ করছে। ইজরায়েলের হাতে থাকা অ্যারো, ডেভিডস স্লিং এবং আয়রন ডোমের মতো বিশ্বখ্যাত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের প্রযুক্তি ভারতকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশেষ সহায়তা করবে। ভারত ও ইজরায়েল যৌথভাবে দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তৈরির প্রকল্পেও কাজ করবে বলে জানা গেছে।

গত বছরের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিংয়ের ইজরায়েল সফরের সময় এই সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরে সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *