ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আইনি বেড়ি! মার্কিন আদালতের রায়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আইনি বেড়ি! মার্কিন আদালতের রায়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৭ সালের জরুরি ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে অন্য দেশের ওপর ঢালাও শুল্ক চাপানোর যে পথে ট্রাম্প হাঁটছিলেন, তা আদতে ক্ষমতার অপব্যবহার। ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক নীতি বড়সড় আইনি বাধার মুখে পড়ল।

কী বলছে ভারত? সতর্ক অবস্থানে নয়াদিল্লি

মার্কিন আদালতের এই রায় এবং তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী বয়ান নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারত। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ‘নোট’ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী স্পষ্ট করেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক যৌথভাবে এই রায়ের আইনি ও বাণিজ্যিক প্রভাব খতিয়ে দেখছে। ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে এবং ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তন কী হতে পারে, তা বিস্তারিত বিশ্লেষণের পরেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে নয়াদিল্লি।

মোদির প্রশংসা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প

আদালতের এই কড়া বার্তার পরেও দমে যেতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আদালতের রায়ে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের মূলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করলেও ট্রাম্পের সাফ কথা, “ভারতকে শুল্ক দিতেই হবে।” তাঁর দাবি, ভারত অতীতে মার্কিন পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বসাত, যা তাঁর প্রশাসন ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করেছে। এমনকি আইনি জটিলতা কাটাতে তিনি ভবিষ্যতে ‘সেকশন ১২২’-এর মতো বিকল্প পথ ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর দাবি এবং প্রকৃত সত্য

এই বিতর্কের মাঝেই ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত অনুরোধের কারণেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো সহজ হয়। তবে ভারত সরকার বরাবরই বজায় রেখেছে যে, দেশের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল, কোনো বিদেশি চাপের ভিত্তিতে নয়।

সব মিলিয়ে, মার্কিন আদালতের এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের তলোয়ার কি এবার ভোঁতা হয়ে যাবে, নাকি তিনি নতুন কোনো আইনি পথে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করবেন— সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ভারতও তার পরবর্তী চাল ঠিক করতে কোমর বেঁধে নামছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *