মমতার মাস্টারস্ট্রোক লক্ষ্মী ভাণ্ডার ও যুবসাথী! মোদী সরকারের ‘বঞ্চনা’র জবাব দিতে এবার রাস্তায় নামল জনজোয়ার

গড়বেতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: লোকসভা নির্বাচনের আবহে কিম্বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও বাংলার জনমুখী প্রকল্পগুলি যে সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার প্রমাণ মিলল ফের একবার। কেন্দ্রীয় সরকারের লাগাতার ‘আর্থিক বঞ্চনা’ ও অসহযোগিতার অভিযোগকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সাফল্যে উৎসবে মাতল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ১ নম্বর ব্লকের ধাদিকা বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মিছিল যেন পরিণত হলো এক মহাসমাবেশে।
কেন্দ্রের বঞ্চনা বনাম বাংলার উন্নয়ন
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, দিল্লি সরকার বাংলাকে প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত রাখলেও রাজ্যের উন্নয়ন থমকে থাকেনি। বিশেষ করে লক্ষ্মী ভাণ্ডারের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়ানোর যে নজির মুখ্যমন্ত্রী গড়েছেন, তাকে কুর্নিশ জানাতেই এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন মিছিল। এদিনের কর্মসূচিতে কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক পা মেলান। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় ছিল মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পের সুফল সরাসরি ভোগ করা মা-বোনেদের ভিড় কার্যত বার্তা দিল যে, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিই এখন তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার।
বিশিষ্ট নেতৃত্বের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বার্তা
ধাদিকা বাজারের এই মেগা মিছিলে নেতৃত্ব দেন গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক উত্তরা সিংহ হাজরা। তাঁর উপস্থিতিতে মিছিলে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। বিধায়কের পাশাপাশি মিছিলে শামিল হয়েছিলেন:
- গড়বেতা ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসীম সিংহ রায়।
- ব্লক মহিলা সভানেত্রী মিঠু পতিহার।
- ব্লক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি হাবিবুল শেখ।
- জেলা পরিষদ সদস্য শান্তনু দে।
- জেলা যুব তৃণমূলের সম্পাদিকা সাবিনা মন্ডল।
মিছিল শেষে তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যেভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের দুয়ারে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ আপ্লুত। ধাদিকা বাজারের এই মিছিল আসলে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ এবং মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন।