বাংলার জন্য বড্ড বেশি হ্যাংলা ওরা, ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার

বাংলার জন্য বড্ড বেশি হ্যাংলা ওরা, ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার

নিউজ ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারির পুণ্যলগ্নে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে ‘হ্যাংলা’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত হানার প্রচেষ্টাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার এই মঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গায়ের জোরে বাংলার মন জয় করা সম্ভব নয়।

‘আমগাছে আম হয়, আমড়া নয়’

শনিবারের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বিজেপি নেতৃত্বের আচরণকে শিশুদের জেদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ছোটরা যেমন চকোলেট বা ফুচকা খাওয়ার জন্য বায়না করে এবং মায়েরা তাদের ‘হ্যাংলা’ বলে সম্বোধন করেন, বিজেপির বাংলা দখলের চেষ্টাও ঠিক তেমনই। তাঁর কথায়, “আমার ওদের দেখে মনে হয়, বাংলার জন্য বড্ড বেশি হ্যাংলা! আমগাছে আম হয়, আমড়া হয় না। আগে বাংলাকে জানুন, মানুষকে ভালোবাসতে শিখুন।” জবরদস্তি বা বুলডোজার দিয়ে বাংলার হৃদয় জয় করা যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

বাংলাভাষীদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা নিয়ে ক্ষোভ

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষদের হেনস্থা এবং ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হন মমতা। ওড়িশা, দিল্লি বা ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলি থেকে কাজ হারিয়ে শ্রমিকদের ফিরে আসার ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “দেশটা তো ভারতবর্ষ। এই রাজ্যে আড়াই কোটি মানুষ ভিনরাজ্যের বাসিন্দা, আমরা তাঁদের ভাই-বোনের মতো রাখি। তাহলে আমাদের লোকেরা কী অপরাধ করল? বাংলায় কথা বলা কি অপরাধ?”

দিল্লির একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ধ্রুপদী ভাষার দাবিকে নস্যাৎ করে তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে এসে বাংলা দখল করা যায় না। এখানে এসে কি মাছ-মাংস খাওয়া বা শাড়ি পরা বন্ধ করে দেবেন?” দেশজুড়ে চলা ‘দুর্যোধন-দুঃশাসনের’ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাকে মাথা উঁচু করে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।

এসআইআর এবং অধিকার রক্ষার লড়াই

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর মাধ্যমে বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, বাংলা কারও দয়ায় চলেনি এবং বাংলার সংস্কৃতি হরণ করা আসাম্ভব। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূলনেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *