রাশিয়ায় শসার দাম আকাশছোঁয়া: দুই মাসে বৃদ্ধি ১১১ শতাংশ, উদ্বেগে পুতিন প্রশাসন

ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে সাধারণ শসার দাম এখন রূপকথার ‘সোনার দরে’ গিয়ে ঠেকেছে। গত দুই মাসে রাশিয়ায় এই ফলের দাম প্রায় ১১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে কেজি প্রতি ৩০০ রুবল বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে আমদানি করা কলা বা মাংসের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি। বিশেষ করে সাইবেরিয়ার সুপারমার্কেটগুলোতে শসা বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হচ্ছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং কৃষি খাতের গ্রিন হাউস পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি। ২০২৬ সালে রাশিয়ায় ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) ২০ থেকে বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করায় জীবনধারণের খরচ এক ধাক্কায় ২.১ শতাংশ বেড়ে গেছে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে সামরিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং শ্রমিকের অভাব অসামরিক পণ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি রুশ সংবাদপত্র পাঠকদের বাড়িতে বিনামূল্যে শসার বীজ পাঠানো শুরু করেছে যাতে মানুষ নিজেরাই ফলন করতে পারে।
রুশ বিরোধী দলগুলো এই সংকটের জন্য সরকারের শুল্কনীতি ও শীতকালীন জোগান ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় একে ঋতুগত কারণ বলে দাবি করেছে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতে রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে ‘অতি উত্তপ্ত’ অবস্থায় রয়েছে। ডলারের বিপরীতে রুবলের মান পড়ে যাওয়া এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিরক্ষা বহির্ভূত শিল্পক্ষেত্রগুলো ধুঁকছে। সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জোগান স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছেন, যাতে হেঁশেলের এই জরুরি পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে আসে।