ঝাড়খণ্ডের কয়লা খনিতে প্রাগৈতিহাসিক বাস্তুতন্ত্রের হদিস, ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের রহস্য উন্মোচন

ঝাড়খণ্ডের কয়লা খনিতে প্রাগৈতিহাসিক বাস্তুতন্ত্রের হদিস, ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের রহস্য উন্মোচন

ঝাড়খণ্ডের উত্তর করণপুরা অববাহিকার অশোক কয়লা খনিতে মানুষ ও ডাইনোসর আসার আগের পৃথিবীর এক সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বীরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অফ প্যালিওন্টোলজির (BSIP) গবেষকরা এখানে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের প্রাচীন উদ্ভিদ, জলাভূমি এবং বিশাল নদী নেটওয়ার্কের প্রমাণ পেয়েছেন। সেই সময় ভারত দক্ষিণ মহাদেশ গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ ছিল এবং এই অঞ্চলটি ঘন গাছপালা ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ছিল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই গবেষণায় গ্লোসোপ্টেরিসের ১৪টি প্রজাতিসহ বিভিন্ন প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম ও পরাগরেণুর অস্তিত্ব মিলেছে। ভূ-রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রায় ২৮০-২৯০ মিলিয়ন বছর আগে দামোদর অববাহিকায় সমুদ্রের লোনা জল প্রবেশ করেছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মহাদেশীয় ভূখণ্ডের পরিবর্তনের কারণেই এই সামুদ্রিক প্লাবন ঘটেছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই আবিষ্কারটি প্রাগৈতিহাসিক যুগের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের রহস্য সমাধানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। প্রাচীন শিলা ও কয়লা ক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত প্রমাণগুলি প্রমাণ করে যে, কীভাবে সামুদ্রিক প্রভাব স্থলজ বাস্তুতন্ত্রকে বদলে দিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা কেবল পৃথিবীর অতীত বুঝতে সাহায্য করবে না, বরং বর্তমান বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *