ইসলামপূর্ব মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন সভ্যতা ও ধর্মে উপবাসের ইতিহাস

ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সভ্যতা ও ধর্মে আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে উপবাস বা রোজার প্রচলন ছিল। প্রাচীন মিশরীয়রা আত্মশুদ্ধি ও দেবতাদের কৃতজ্ঞতা জানাতে তিন থেকে সত্তর দিন পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও শারীরিক সম্পর্ক বর্জন করত। তবে তাদের এই উপবাস পদ্ধতি সাধারণ মানুষ নাকি কেবল পুরোহিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অন্যদিকে, পারস্যের জরথুস্ত্রবাদে উপবাসকে নিরুৎসাহিত করা হলেও কুর্দিস্তানের ইয়াজিদি ধর্মে তিন দিনের রোজা পালন ও ‘ঈদ ইজি’ উৎসবের ঐতিহ্য ছিল। ইয়াজিদিদের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ ভেদে দুই ধরনের রোজার নিয়ম দেখা যায়। তাদের বিশ্বাসমতে, উপবাস সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতো।
আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম ইহুদিধর্মে ‘ইয়োম কিপুর’ বা প্রায়শ্চিত্তের দিনে ২৬ ঘণ্টার কঠোর উপবাস পালিত হয়। খ্রিষ্টধর্মেও যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ইস্টারের আগে ৪০ দিনের উপবাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি গির্জা নিজস্ব রীতিতে এই সময় নির্ধারণ করে, যেখানে অনুসারীরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আহার থেকে বিরত থেকে প্রার্থনা ও ক্ষমা ভিক্ষা করেন।