সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে বাঘের থাবা, সঙ্গীদের প্রাণপণ লড়াই হার মানল মৃত্যুর কাছে
সুন্দরবন, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: পেটের টানে গভীর জঙ্গলে পাড়ি দেওয়া মৎস্যজীবীদের জীবনে ফের নেমে এল অন্ধকারের ছায়া। সুন্দরবনের চামটার জঙ্গলে বাঘের সঙ্গে আসাম লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন ৩৫ বছর বয়সী মৎস্যজীবী গোপাল ঢালি। সোমবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ ঝড়খালি কোস্টাল থানার ত্রিদিবনগর এলাকা। বাঘের মুখ থেকে সহযোদ্ধাকে ছিনিয়ে আনতে সঙ্গীরা লাঠি হাতে মরণপণ লড়াই চালালেও, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো তাঁদের।
আকস্মিক আক্রমণ ও সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্ত
গত রবিবার দুই সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীর খাঁড়িতে গিয়েছিলেন গোপাল। সোমবার সকালে যখন তাঁরা চামটার জঙ্গলে কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই ঝোপের আড়াল থেকে বিদ্যুৎবেগে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি দক্ষিণরায়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন গোপাল। বিপদ বুঝে পিছপা হননি তাঁর অন্য দুই সঙ্গী। হাতে থাকা লাঠি ও চিৎকার করে বাঘের ওপর পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাঁরা। কয়েক মিনিটের সেই হাড়হিম করা লড়াইয়ের পর বাঘটি শিকার ছেড়ে জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী-সন্তান
বাঘের কবল থেকে রক্তাক্ত গোপালকে উদ্ধার করে দ্রুত জঙ্গল থেকে বের করে আনেন তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মঙ্গলবার সকালে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাড়িতে রয়েছেন গোপালের স্ত্রী ও ছোট সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনককারীকে হারিয়ে এখন অকূল পাথারে দম্পতি ও তাঁর পরিবার।
জীবিকার ঝুঁকি ও বারবার ফিরে আসা আতঙ্ক
সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের কাছে জীবন আর মৃত্যু যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কয়েক দিন আগেই ছোট মোল্লাখালির কালিদাসপুর গ্রামের এক মৎস্যজীবী একইভাবে বাঘের হানায় প্রাণ হারিয়েছেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই চামটার জঙ্গলে এই ঘটনা আবারও ধীবরদের নিরাপত্তা ও পেটের তাগিদে মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে গভীর জঙ্গলে প্রবেশের করুণ বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এল। বনদপ্তরের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও জীবিকার প্রয়োজনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।