আমি না থাকলে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী মারাই যেতেন! ভারত-পাক পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

আমি না থাকলে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী মারাই যেতেন! ভারত-পাক পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

ফের একবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব নিজের পকেটে পুরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে দাবি করেছেন যে, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশ পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত।

মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, “ক্ষমতায় ফেরার প্রথম ১০ মাসেই আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। ভারত ও পাকিস্তান তো পরমাণু যুদ্ধের দোরগোড়ায় ছিল। সাড়ে তিন কোটি মানুষ সাক্ষী আছেন, আমি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়তো মারাই পড়তেন।”

ট্রাম্পের এই দাবির প্রেক্ষাপট গত বছরের জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিহানা এবং পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই সময় সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর মধ্যস্থতাতেই দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। এর আগেও অন্তত ৫০ বার তিনি এই একই দাবি করেছেন। এমনকি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছেও আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন যে, ভারত-পাক যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনি কোনো কৃতিত্বই পাননি।

তবে ভারত সরকার বরাবরই ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১০ মে পাকিস্তান নিজেই ডিজিএমও (DGMO) চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভারত তাতে সম্মতি জানায়। এখানে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপের ভূমিকা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই একতরফা কৃতিত্ব নেওয়ার প্রবণতা এবং ভারতের তা অস্বীকার করার বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে। কেবল ভারত-পাকিস্তান নয়, ট্রাম্প একইসঙ্গে ইজরায়েল-হামাস, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং সার্বিয়া-কোসোভোর মতো একাধিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধ থামানোর দাবিও নিজের নামে করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *