১০ লক্ষের গণ্ডি পেরোল কলকাতা পুরসভার করদাতার সংখ্যা

১০ লক্ষের গণ্ডি পেরোল কলকাতা পুরসভার করদাতার সংখ্যা

কলকাতা পুরসভার ভাঁড়ারে এল বড় স্বস্তি। শহরজুড়ে করদাতার সংখ্যায় নজিরবিহীন বৃদ্ধি ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রশাসন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পরই সামনে এল এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান। চলতি ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শহরের নথিভুক্ত সম্পত্তিকরদাতার সংখ্যা ১০ লক্ষের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে।

পুরসভা সূত্রে খবর, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৩১। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহেই সেই সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় অনেক দ্রুত। বিশেষ করে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এই বৃদ্ধি রীতিমতো চোখে পড়ার মতো।

সাফল্যের নেপথ্যে কোন ম্যাজিক?

পুর প্রশাসনের দাবি, মিউটেশন প্রক্রিয়ায় গতি আনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে যাদবপুর, বেহালা, জোকা ও টালিগঞ্জের মতো সংযুক্ত এলাকাগুলোতে নগরায়নের জোয়ারকে কাজে লাগাতে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন মেয়র। নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে দ্রুত করের আওতায় আনতে বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজ করা হয়েছে।

পুরসভার ভাঁড়ারে লক্ষ্মীলাভ

আগে যেখানে বছরে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার নতুন করদাতা যুক্ত হতেন, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে। পাঁচ বছর আগে করদাতার সংখ্যা যেখানে ছিল আট থেকে সাড়ে আট লক্ষের মধ্যে, আজ তা ১০ লক্ষ ছাড়ানোয় আয়ের পথ আরও প্রশস্ত হলো।

পুরসভার অর্থ দফতরের আধিকারিকদের মতে, নিয়মিত সমীক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলেই এই রেকর্ড তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। করদাতার সংখ্যা বাড়ায় একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, তেমনই শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি গতি আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *