ধূমপান ছাড়লেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি শেষ? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ভারতীয় গবেষকদের ১০ বছরের সমীক্ষা

ধূমপান ছাড়লেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি শেষ? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ভারতীয় গবেষকদের ১০ বছরের সমীক্ষা

তামাক বা ধূমপানের নেশা কি আপনার জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে? ভারতীয়দের ওপর চালানো দীর্ঘ ১০ বছরের এক গবেষণায় উঠে এল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চোখ কপালে তোলার মতো কিছু তথ্য। চিকিৎসকরা বলছেন, নেশা ছাড়লেই যে বিপদ পুরোপুরি কেটে যায় তা নয়, তবে ঝুঁকি কমে অনেকটাই।

ঝুঁকি কমে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা অন্তত ১০ বছর আগে ধূমপান ছেড়েছেন, তাঁদের মুখগহ্বরের ক্যানসার বা ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি বর্তমান ধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কমে গিয়েছে। অন্যদিকে, যাঁরা খৈনি, গুটখা বা জর্দার মতো তামাক চিবানোর অভ্যাস ছেড়েছেন, এক দশক পর তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

ভারতের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

বিশ্বের মোট ওরাল ক্যানসার আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। আমাদের দেশে পুরুষদের মধ্যে প্রধান তিনটি ক্যানসারের একটি হলো এই মুখগহ্বরের ক্যানসার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১.৪ লক্ষ মানুষ নতুন করে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি ধরা পড়ে একেবারে শেষ পর্যায়ে, যার ফলে মৃত্যুহারও অনেক বেশি।

সাবধান! বিপদ যেখানে লুকিয়ে

গবেষকরা এই ক্যানসারের প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  • ধূমপান (বিড়ি, সিগারেট)
  • ধোঁয়াবিহীন তামাক (গুটখা, খৈনি, জর্দা)
  • মদ্যপান ও সুপারি চিবোনোর অভ্যাস
  • দাঁত ও মুখের সঠিক যত্নের অভাব

নেশা ছাড়লেও কি ঝুঁকি থেকে যায়?

গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তামাক ছাড়লে ঝুঁকি কমলেও তা কখনও ‘শূন্য’ বা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। যাঁরা ১০ বছর আগে তামাক ছেড়েছেন, তাঁদের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের (যাঁরা কখনও তামাক ব্যবহার করেননি) তুলনায় এখনও প্রায় ১২.৫ গুণ বেশি। বিশেষ করে যাঁরা সুপারি ও তামাক একসঙ্গে ব্যবহার করেন, তাঁদের বিপদ অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দেশের একাধিক কেন্দ্রে প্রায় ৪,৬০০ জনের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। গবেষকদের স্পষ্ট বার্তা, ক্যানসার থেকে বাঁচার একমাত্র নিশ্চিত উপায় হলো তামাককে চিরতরে বিদায় জানানো। নেশা ছাড়ার ইচ্ছা থাকলেও সঠিক পদ্ধতির অভাবে অনেকেই মাঝপথে ফিরে আসেন। তাই সুস্থ থাকতে তামাক শুরু না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *