আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটিতে চরম উত্তেজনা, এবিভিপি কর্মীদের গ্রেফতার ঘিরে রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস

বেঙ্গালুরুর আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড। কাশ্মীর নিয়ে আয়োজিত একটি আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে এবিভিপি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও উত্তেজনা কমছে না।
ঠিক কী ঘটেছিল?
অভিযোগ উঠেছে যে, কাশ্মীরি মহিলাদের অবস্থা নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আচমকাই চড়াও হয় এবিভিপি কর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং অনুষ্ঠান চলাকালীন ভাঙচুর চালায় বলে দাবি পড়ুয়াদের। শুধু তাই নয়, উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে মারধর করার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে, এবিভিপি-র দাবি ছিল, এই অনুষ্ঠানের আড়ালে বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং ভারতীয় সেনাকে অপমান করা হচ্ছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি
ঘটনার খবর পেয়েই সরজাপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অশান্তি সৃষ্টির দায়ে প্রায় ২০ জন এবিভিপি কর্মীকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের অনেকল আদালতে পেশ করা হলে, ভোররাত নাগাদ তারা জামিনে মুক্তি পায়। তবে এই ঘটনায় ক্যাম্পাস জুড়ে প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি পড়ুয়াদের
এই হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ পড়ুয়ারা। তারা মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পড়ুয়াদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবাধ আলোচনা ও বাক-স্বাধীনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- হামলাকারী এবিভিপি কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
- ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে কড়া নজরদারি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও ভেতরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ চলছে। ডেইলিহান্ট-এর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।