সরকারি হাসপাতালে আসাম্ভবকে সম্ভব করে ইতিহাস তৈরি হলো! প্রথম আইভিএফ শিশুর জন্ম ঘিরে খুশির হাওয়া

সরকারি হাসপাতালে অসম্ভবকে সম্ভব করে ইতিহাস তৈরি হলো! প্রথম আইভিএফ শিশুর জন্ম ঘিরে খুশির হাওয়া

হায়দরাবাদের সিকন্দরাবাদস্থিত গান্ধী হাসপাতাল এক অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষী থাকল। তেলেঙ্গানা তো বটেই, সম্ভবত দুই তেলুগু রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ইতিহাসে এই প্রথম ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো সুস্থ শিশুর জন্ম হলো। দীর্ঘ সাত বছর ধরে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে মরিয়া এক দম্পতির ঘরে অবশেষে কান্নার শব্দ শোনা গেল, যা সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করেছে।

দীর্ঘ লড়াই ও সাফল্যের কাহিনী

শহরের এক দম্পতির বিয়ের সাত বছর কেটে গেলেও কোল আলো করে কোনো সন্তান আসেনি। বহু নামী দামী বেসরকারি ফার্টিলিটি সেন্টারে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেও কোনো সুফল পাননি তারা। উল্টে আর্থিক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই দম্পতি। এরপর শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তারা গান্ধী হাসপাতালের প্রজনন সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন।

সেখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা দম্পতির যাবতীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান করার পর জানতে পারেন যে, বেসরকারি হাসপাতালে তাদের ইন্ট্রাইউটেরিন ইনসেমিনেশন (IUI) প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই সরকারি চিকিৎসকরা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতিতে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের নিরলস পরিশ্রম এবং সঠিক তত্ত্বাবধানে এই প্রচেষ্টা সফল হয়। চলতি মাসের ৭ তারিখ ওই মহিলা একটি ফুটফুটে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন।

সরকারি পরিষেবায় নয়া দিগন্ত

গান্ধী হাসপাতালের এই সাফল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। সাধারণত বেসরকারি ক্লিনিকে আইভিএফ চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে। কিন্তু সরকারি স্তরে এই পরিষেবার সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক পরিকাঠামো থাকলে সাধারণ মানুষও স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে উন্নত মানের প্রজনন সহায়তা পেতে পারেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গান্ধী হাসপাতালের এই প্রজনন কেন্দ্রে মোট ৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৭ জনের আইভিএফ চিকিৎসা শুরু হয় এবং সাতজনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল বা প্রেগন্যান্সি নিশ্চিত হয়েছে। এই দম্পতিই প্রথম যারা এই প্রকল্পের আওতায় সফলভাবে সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হলেন।

সরকারি ঘোষণা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার মা ও শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী দামোদর রাজা নরসিংহ আজ বা কালের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে। এই সাফল্য কেবল একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *