২৭ বছর পর বড় পদক্ষেপ, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল বদল আনতে এক টেবিলে কেন্দ্র ও রাজ্য

২৭ বছর পর বড় পদক্ষেপ, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল বদল আনতে এক টেবিলে কেন্দ্র ও রাজ্য

নয়াদিল্লি: ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে কোমর বেঁধে নামল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ ২৭ বছরের দীর্ঘ ব্যবধান ঘুচিয়ে মঙ্গলবার দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এক হাই-প্রোফাইল রাউন্ড টেবিল বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনাররা। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথমবার কেন্দ্র ও রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকরা এমন মেগা বৈঠকে বসছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের নেপথ্যে মূল লক্ষ্য

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু এবং ডঃ বিবেক জোশী উপস্থিত থাকবেন। ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। মূলত ইভিএম (EVM) এবং ভোটার তালিকার আধুনিকীকরণ নিয়ে এখানে বড়সড় রোডম্যাপ তৈরি হতে পারে।

ডিজিটাল বিপ্লব ও ইসিআই-নেট (ECINET)

নির্বাচনী পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘ECINET’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেবেন সিনিয়র আধিকারিকরা। কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটারদের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল মোড়কে আনা যায়, তা নিয়েই চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এছাড়া ইভিএম-এর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে রাজ্যগুলোর মনে থাকা যেকোনো সংশয় দূর করতে বিশেষ সেশন রাখা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় বড় রদবদল?

১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির নির্দেশিকাগুলোকে আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হবে। পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ২৪৩কে এবং ২৪৩জেড-এ ধারা অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলোর হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় তালিকার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ (One Nation One Election) নিয়ে দেশজুড়ে চলা জল্পনার মাঝে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।

কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নির্বাচন পরিচালনার পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তোলাই এই ঐতিহাসিক সভার মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকের পর দেশের ভোটদান প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *